সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চট্টগ্রামের করোনা রোগী মারা যাননি, গুজব রটনাকারীদের ধরবে পুলিশ

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০, ৪:২৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের প্রথম করোনা রোগী ‘মারা গিয়েছেন’ বলে গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. নুরুল হায়দার। এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে শনিবার দুপুর থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে গতকাল শুক্রবার শনাক্ত হওয়া চট্টগ্রামের প্রথম করোনা রোগী মারা গেছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব উল্লেখ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোভিড-১৯ ফোকাল পারসন ডা. মো. নুরুল হায়দার শনিবার বিকেলে একুশে পত্রিকাকে বলেন, আক্রান্ত রোগীর অবস্থা খারাপ হয়নি। তিনি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ডা. মো. নুরুল হায়দার বলেন, আজকে ঢাকায় আইইডিসিআর থেকে করোনায় দুইজনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে। কেউ হয়তো ওই খবরটির সঙ্গে চট্টগ্রামেরটা মিলিয়ে ফেলেছেন। কারা এই ধরনের গুজব ছড়িয়েছে তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের বিশেষ শাখাকে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৭ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ ন্যাশনাল হসপিটালে ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ভর্তি ছিলেন।

মার্চের শেষের দিকে চিকিৎসার একপর্যায়ে চিকিৎসক সন্দেহ করেন এই বৃদ্ধ করোনা পজিটিভ হতে পারেন। এরপর বৃদ্ধকে জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে তিনি নিজেই হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যান।

অন্যদিকে বৃদ্ধর স্বজনরা তাকে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত জেনারেল হাসপাতালে না নিয়ে পার্কভিউ হসপিটালে নিয়ে যান। তবে পার্কভিউ হসপিটাল ভর্তি না করায় বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সে সময় তিনি বিদেশফেরত কারো সংস্পর্শে এসেছেন কিনা জানতে চেয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। তখন রোগী ‘না’ সূচক জবাব দেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার এই ব্যক্তির শরীরে রোগটি ধরা পড়ে। তাকে এখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে ও তার শাশুড়ি পবিত্র ওমরা হজ্ব শেষে গত ১২ মার্চ সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন। সৌদি-ফেরৎ মেয়েকে বিমানবন্দর থেকে আনতে যাওয়া, মেয়ের হোম কোয়ারেন্টাইন না থাকা এবং সামাজিক, শারীরিক দূরত্ব না মানার ফলেই বাবা সংক্রমিত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।