বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলা, বাঁচানো গেলো না সেই মুক্তিযোদ্ধা-সন্তানকে

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০, ৫:২২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : নগরের মাদারবাড়িতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিবেশির হামলায় গুরুতর আহত মু্ক্তিযোদ্ধা-সন্তান মোহাম্মদ শফিকে (৩৮) বাঁচানো গেলো না। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩ টার দিকে তিনি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)। নিহত শফির ছোটভাই এনামুল হক একুশে পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৩ মার্চ থেকে সিএসসিআর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন শফি। শনিবার মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে চমেক হাসপাতালে খালি হওয়া আইসিইউ বেডে স্থানান্তর করা হয়েছিল তাকে।

নিহত মোহাম্মদ শফি পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার মু্ক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৃত নূর আলীর সন্তান। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

এর আগে ২২ মার্চ একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশির ভয়াবহ আক্রমণের শিকার শফিকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সেবা-চিকিৎসা।

তুচ্ছ ঘটনায় শফির উপর হামলে পড়েছিল এই দুইজন, যারা এখন পলাতক। ছবি : সংগ্রহ

 

চমেক হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংকট থাকায় ২৩ মার্চ ভোরে শফিকে নগরের সিএসসিআর হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে নিউরো সার্জন ডা. কামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে শফির মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

আহত শফির ছোটভাই এনামুল হক জানান, ছোট একটি সাজনার গাছ কাটা নিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ভাই শফির উপর দুই দফায় হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় বড় ভাই শফিকে মাথায় মারাত্মক আঘাত এবং ডান পায়ের হাঁটুতে ছুরিকাঘাত করে ফারুক ও তার ছোট ভাই আহমদ নবী। আর এতে ইন্ধন জোগায় তাদের মা।

ওইদিনই গুরুতর আহত শফিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এলাকাবাসী। প্রায় ১৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ শফি। শফির স্ত্রী ও ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় মামলা হয়। কিন্তু ১৪ দিনে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

### তুচ্ছ ঘটনায় হামলা, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা-সন্তান