বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কক্সবাজার সৈকতের সেই ডলফিন মারা যাচ্ছে জেলেদের হাতে

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০, ৯:০৯ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে খেলা করা ডলফিনগুলো জেলেদের হাতে মারা যাচ্ছে। জেলেদের জালে আটকে আঘাত পাওয়া ডলফিন ভেসে আসছে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপকূলে। গত দুইদিনে টেকনাফ উপকূলে ভেসে এসেছে দুইটি বিশাল আকৃতির ডলফিন।

অথচ দুয়েকদিন আগেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিরল ডলফিন দলবেধে খেলা করতে দেখা গেছে। কিন্তু জেলেদের উৎপাতে কদিন ধরে এই ডলফিন দেখা যাচ্ছে না।

আজ শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলাপুর সৈকতেও একটি বড় মৃত ডলফিন ভেসে আসে। ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এর আগে ২৩ মার্চ (সোমবার) সকালে প্রথম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ থেকে ১২টি ডলফিন দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডলফিন খাবার সংগ্রহের জন্য মাছের পালের পেছনে থাকে। জেলেরাও বিষয়টা জানে। মাছধরার জন্য জেলেরা সাগরে ডলফিনের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে। এসময় জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে।

পরিবেশবিদ বিশ্বজিৎ সেন একুশে পত্রিকাকে জানান, এভাবে ডলফিন নিধন প্রজাতিটির জন্য হুমকিস্বরূপ। দীর্ঘ তিন দশক পর ডলফিন সৈকতে ফিরেছে। কিন্তু জেলেদের লোভ, অসচেতনতার কারণে মারা যাচ্ছে তারা। পরিবেশ বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের উচিত ডলফিনের অভয়াশ্রম নির্ধারণ করে সেসব স্থানে মৎস্য আহরণ বন্ধ করা। এছাড়া জেলেদের সাথে নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা উচিত।

এদিকে, এনভাইরনমেন্ট পিপলস কক্সবাজারের সংগঠক এইচ এম নজরুল বলেন, করোনার কারণে পর্যটকশূন্য সৈকতে প্রাকৃতিক পরিবেশে ডলফিন ফিরে আসে। তারা খেলা করছিলো। কচ্ছপ দল বেধে সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে ঘর বেঁধেছে। গত দুই দশকে হারিয়ে যাওয়া শামুক ঝিনুক আবারও সৈকতে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গভীর সমুদ্রে জেলেদের জাল থেকে ডলফিন রেহাই পাচ্ছেনা। ডলফিন রক্ষার জন্য জেলেদের সচেতন ও সতর্ক করা প্রয়োজন।