বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনাভাইরাস: এবার খুলশীর সুপারশপ বাস্কেট বন্ধ

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর খুলশী এলাকায় অবস্থিত সুপারশপ দ্য বাস্কেট বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাস্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ খান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের প্রথম করোনা রোগীর ছেলে বাস্কেট সুপাশপে কর্মরত ছিলেন। সুপারশপের স্টাফদের সাথে তার সংস্পর্শ ছিল। এ কারণে আপাতত বাস্কেট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ওই ছেলেটির করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে আজ শনিবার। যদি ফলাফল পজেটিভ আসে তাহলে বাস্কেটের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

এদিকে করোনা রোগীর দামপাড়ার বাসাসহ আশপাশের ৬টি ভবন, সাতকানিয়ায় করোনা রোগীর মেয়ের শ্বশুর বাড়ি, চন্দনাইশের জামিজুরিতে আত্মীয়ের বাড়ি, ডবলমুরিংয়ে একটি তিনতলা বাড়ি ও পটিয়ায় আরেকটি বাড়ি লকডাউন হয়। এছাড়া উক্ত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া ন্যাশনাল হসপিটালের ২৩ জন চিকিৎসক ও স্টাফ হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৭ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ ন্যাশনাল হসপিটালে ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ভর্তি ছিলেন।

মার্চের শেষের দিকে চিকিৎসার একপর্যায়ে চিকিৎসক সন্দেহ করেন এই বৃদ্ধ করোনা পজিটিভ হতে পারেন। এরপর বৃদ্ধকে জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে তিনি নিজেই হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যান।

অন্যদিকে বৃদ্ধর স্বজনরা তাকে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত জেনারেল হাসপাতালে না নিয়ে পার্কভিউ হসপিটালে নিয়ে যান। তবে পার্কভিউ হসপিটাল ভর্তি না করায় বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সে সময় তিনি বিদেশফেরত কারো সংস্পর্শে এসেছেন কিনা জানতে চেয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। তখন রোগী ‘না’ সূচক জবাব দেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার এই ব্যক্তির শরীরে রোগটি ধরা পড়ে। তাকে এখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে ও তার শাশুড়ি পবিত্র ওমরা হজ্ব শেষে গত ১২ মার্চ সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন। সৌদি-ফেরৎ মেয়েকে বিমানবন্দর থেকে আনতে যাওয়া, মেয়ের হোম কোয়ারেন্টাইন না থাকা এবং সামাজিক, শারীরিক দূরত্ব না মানার ফলেই বাবা সংক্রমিত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।