সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা, পিপিই ও বাংলাদেশের আবহাওয়া

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২০, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

জেসিকা ইরফান : আমি ডাক্তার নই, তারপরও পরিবারে যখন অনেক ডাক্তার আছেন এবং উনারা দেশে-বিদেশে এই করোনা মহামারি মোকাবিলা করছেন তাই বহুল আলোচিত এই পিপিই নিয়ে একটু পড়ালেখা ও খোঁজ খবর নিতেই হলো।যদি কিছু ভুল হয় প্লিজ ঠিক করে দেবেন ।

পিপিই হচ্ছে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুপমেনট। এটা কোনো বায়ুবাহিত মহামারির সময় ডাক্তাররা ব্যবহার করেন।যাতে ডাক্তার নিজে ইনফেকটেড না হন। অর্থাৎ এটা ডাক্তার ও ইনফেকটেড রোগীর মাঝখানে রোগ ট্রাসমিশনে একটা ব্যরিয়ার তৈরি করে।

এর ফলে ডাক্তার নিজেকে সেইফ রাখতে পারেন, অন্যদিকে রোগীও নিজেকে সেইফ ফিল করেন এই কারণে যে, ডাক্তার যদি ঐ রোগের ক্যারিয়ার হন কিন্তু রোগী যদি না হন কিন্তু ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা করাতে আসার ফলে রোগাক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।

এটা কেমন ? এটা বানানো হয় ওয়াটার ও এয়ার প্রুফ ম্যাটারিয়াল দিয়ে। এবং এটা ডাবল লেয়ার হয়।সাথে আনুষঙ্গিক গ্লাভস, মাক্স, সু কভার আরও অনেক কিছু থাকে।

এটা পরার পর পার্সোনাল সব কাজ বন্ধ রাখতে হয় অ্যাই মিন খাওয়া দাওয়া, বাথ্রুম যাওয়া এসব। এই জন্য এটা পরার সময় ভেতরে ডাইয়পার ইউজ করতে হয়।

এটা ওয়ান টাইম ইউজ করা যায়। তারপর ফেলে দিতে হয় (আমি যেটা WHO আপ্রুভড ওটার কথা বলছি)।

এখন আসি বাংলাদেশের এই আবহাওয়ার প্রাস্পেকটিভে এটা কতটুকু ব্যবহারযোগ্য ?

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো সেন্ট্রালড এসি নয়। কোনো সরকারই এইদিকটায় বা স্বাস্থ্য সেক্টরে কখনো নজরই দেননি। না ডাক্তারের আরামের জন্য না রোগীর আরামের জন্য ।

এখন আমাদের দেশে প্রচণ্ড গরম। প্রায় ৩৩ ডিগ্রী থেকে ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এই গরমে ডাক্তার যদি নিজের প্রটেকশনের জন্য পিপিই পরেন তাহলে উনি এমনিতেই অসুস্থ হয়ে পরবেন। ভেতরে ঘামতে ঘামতে ডিহাইড্রেটেড হয়ে নেতিয়ে যাবেন।

তাহলে করনীয় কী? রাতারাতি সব হাসপাতাল এসি করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সাউথ কোরিয়াকে ফলো করতে পারি। ডাক্তার ছোট একটা গ্লাস বুথের মধ্যে প্রটেক্টেড থাকবেন।ওখান থেকে রোগী দেখবেন।
সবাই সাবধানে থাকুন।ভালো থাকুন।

লেখক : বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সদস্য ডা. বিএম ফয়েজুর রহমানের কন্যা