বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চট্টগ্রাম কারাগারে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ, সংক্রমণ ঠেকাতে নানা ব্যবস্থা

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২০, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে যাতে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারে সেজন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার থেকে কারাগারে দর্শনার্থী প্রবেশ করছেন না। তবে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের মোবাইল ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সাক্ষাৎপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যায়। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে কয়েকদিন তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তবে ২৫ মার্চ থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্দিদের টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করার পর কারাগারে সীমিত সংখ্যক আবেদনকারীকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। তখন সাক্ষাৎপ্রার্থীকে জীবাণুমুক্ত নিশ্চিত করা হয়।

সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেখা করতে না পারায় বন্দিদের আত্মীয়-স্বজন দুঃশ্চিন্তায় আছেন। বন্দিরা যাতে হতাশ হয়ে না পড়েন এবং স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে পারে সেজন্য ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারছেন বন্দীরা। বন্দিরা ৫ মিনিট কথা বলতে পারছেন বন্দীরা।

তিনি জানান, প্রতি মিনিট কথা বলার জন্য এক টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে তার পিসি (প্রিজন ক্যান্টিন) একাউন্ট থেকে; যে একাউন্টে পরিবারের লোক বন্দির ব্যক্তিগত খরচের জন্য টাকা জমা করেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে এ ধরনের নানা ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কারাগারে আসা নতুন বন্দিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। নতুন বন্দিদের পুরনোদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও জীবানুনাশক দিয়ে স্প্রে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, কারাগারের প্রধান ফটকে ও কারাভ্যন্তরে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ও ক্লোরিন মিশ্রিত পানিতে বুট ভিজিয়ে নিতে প্রত্যেক স্টাফের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারাভ্যন্তরে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন বসানো হয়েছে। নতুন আসা বন্দিকে ‘ইনফ্রারেড থার্মোমিটার’ দিয়ে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হচ্ছে। এছাড়াও আসামিদের মধ্যে কেউ বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন কিনা, আসামির স্বজনদের মধ্যে কেউ বিদেশ ভ্রমণ করেছিল কিনা, এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সন্দেহভাজন বন্দিকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে জানিয়ে সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, নতুন বন্দিদের অন্য সাধারণ বন্দিদের থেকে পৃথক করে ১৪ দিন আলাদা ওয়ার্ডে বন্দি রাখা হচ্ছে। কারাভ্যন্তরে শেখ রাসেল ভবন ও মহিলা এলাকায় একটি ওয়ার্ড খালি করা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনের জন্য। এ ছাড়া কারা হাসপাতালে আইসোলেশনের জন্য ওয়ার্ড প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।