শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনাকালেও চট্টগ্রামের গ্রুপিংয়ের রাজনীতি!

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০, ১০:৩১ অপরাহ্ণ

হাসিনা আকতার নিগার : কলম রেখে চুপচাপ থাকা বড় দুষ্কর। ল্যাপটপ, মোবাইলের অসম্ভব একটা চুম্বক শক্তি আছে৷ না চাইলেও হাত যাবেই। কারণ মুহূর্তে মুহূর্তে আসছে নতুন খবর।আর ফেইসবুক হলো খবরের ভাণ্ডার। অল্পসময়ে ছড়িয়ে পড়ে সত্যমিথ্যা সব খবর। আর রাজনৈতিক বিষয় হলে তো কথাই নেই। পক্ষ-প্রতিপক্ষের লড়াই চলে স্ট্যাটাস আর মন্তব্যের ঘরে।

কিন্তু কোভিট-১৯ এর এই ক্রান্তিলগ্নে রাজনৈতিক লড়াইটা বড় অশোভন।  এমনিতেই সারাদেশে ত্রাণ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পর্কে মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শেষ নেই। তার উপর সাম্প্রতিককালে চট্রগ্রামের বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও স্থগিত চসিক নির্বাচনের আওয়ামী লীগ পদপ্রার্থী রেজাউল করিমের করোনাকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে নিজেদের মাঝে চলছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি, যা আওয়ামী রাজনীতি ও সরকারের জন্য সত্যি নিন্দনীয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে দেশের এ কঠিন পরিস্থিতিকে সামাল দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এ সংকটে দেশের মানুষকে ভালো রাখতে গিয়ে তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন দূর্নীতির কবলে দেশ কোথায় আছে৷ নিজের দলের এমপি মন্ত্রীদের বেহাল দশা। তাদের উপর আস্থা রাখা যায় না বলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন প্রশাসনের উপর। সরকারের ৬৪ সচিব ৬৪ জেলায় কাজ করবেন। আর সচিবগণ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে সে প্রত্যাশা সবার।

রাজনীতি আর প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকার তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সাধারণত। আর দুর্যোগ, মহামারিতে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকে জনগণের পাশে সরাসরি। তবে কোভিট-১৯ এর মহামারিতে দেশের ক্ষমতাবান মন্ত্রী-এমপি নেতাদের তেমন উপস্থিতি নেই মাঠে। ছাত্রলীগ মানুষের পাশে আছে সরব হয়ে। এটা যে সত্যি প্রশংসনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের প্রশংসা করে উৎসাহিত করছেন।

চট্টগ্রাম কোভিট-১৯ প্রতিরোধের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে শুরু থেকেই তৎপর ছিল। আর এ কাজে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ অন্যান্যরা।

গত মার্চ মাসে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা মাঝে আসে কোভিট-১৯। বিগত ৩০ মার্চের চসিক নির্বাচন স্থগিত হয় এ ভাইরাসের কারণে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান চট্রগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ এম রেজাউল করিম চৌধুরী। যদিও মানুষ মনে করত মেয়র নাছির ছাড়া বিকল্প প্রার্থী নাই। কিন্তু সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির চেষ্টা তদবির করেও দলের ম্যান্ডেট পাননি। কারণ বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণভাবে দলীয় সভানেত্রীর একক সিদ্ধান্ত। নেত্রী যোগ্য মনে করেছেন ক্লিন ইমেজের রেজাউল করিমকে। তাই দলের অনুসারীরা এক ধরনের স্বস্তি পান নতুনের প্রত্যাশায়। এখন এ প্রার্থীকে চট্রগ্রামবাসী ভোট দিয়ে মেয়র করবে কিনা তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চসিক নির্বাচন হওয়া অবধি।

দীর্ঘ দিন ধরে চট্রগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে অলিখিত গ্রুপিং কাজ করে আসছে। মহিউদ্দিন গ্রুপ আর নাছির গ্রুপের দ্বন্দ্ব কর্মীসর্মথকদের মাঝে এখনো বিদ্যমান। চসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পর উভয় গ্রুপের নানা
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় তা আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠেছিল।

সে ধারাবাহিকতায় কোভিট-১৯ প্রতিরোধের কার্যক্রমে বর্তমান মেয়র নাছির ও আগামী নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী রেজাউলের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ঘটনার জন্ম দিচ্ছে তাদের কর্মী-সর্মথকরা।

মেয়র নাছির মেয়রের দায়িত্বে আছেন এখনো। তাই তার বেশিরভাগ কার্যক্রম সরকারের নির্দেশিত কাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে এর বাইরে যে সব কাজকে লোকদেখানো কার্যক্রম বলা হচ্ছে, সে সম্পর্কে জবাবদিহিতার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভাবে তার নিজের। অন্য দিকে রেজাউল করিম জনগণের পাশে আছেন তার নিজস্ব উদ্যোগে। সেখানে দলের সহায়তা ও সমর্থন হচ্ছে বাড়তি পাওনা। তিনি অবস্থানগতভাবে বর্তমান মেয়রের মত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। তা জনগণ বোঝেন। আর সকলের জানা মতে তিনি প্রচারবিমুখ একজন ব্যক্তি। তাই তার কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে খবরাখবর কম। সে অবস্থায় সজ্জন এ ব্যক্তিকে নির্বাচনের আগে বির্তকিত করা উচিত নয়।

চসিক নির্বাচন স্থগিত আছে। বাতিল হয়ে যায়নি। এ ক্ষেত্রে যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুনঃবিবেচনার কথা বলে তা অর্বাচীন। সাধারণত রাজনীতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা নেতার কিছু অন্ধ সর্মথক, কর্মী থাকে। যারা আবেগের আতিশয্যে অনেক ভুল কাজ করে। যা সমীচিন নয়। আবার নেতাকে খুশি করতে গিয়ে উল্টো নেতার ক্ষতি করে।

রাজনীতি হলো জনগণের জন্য। প্রত্যেক নেতা একই স্টাইলে কাজ করবে তা আশা করা ভুল। আবার একজনের সাথে অন্যজনকে তুলনা করার সময় এখন নয়। বরং দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা নেতাকর্মীদের সহনীয় হতে হবে বেশি মাত্রায়।

জনগণ এখন কোভিট-১৯ থেকে পরিত্রাণ পেতে মরিয়া। আর লকডাউনের কর্মহীন সময়ে তারা চায় তাদের থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা। সুতরাং সংকটকালীন এই সময়ে ব্যক্তিরাজনীতি থেকে অনেক বেশি দরকার একতাবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মজা শেখ হাসিনার পাশে থাকা।

হাসিনা আকতার নিগার : লেখক