মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

হলিউডে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর নেতিবাচক চিত্রায়নে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২০, ৪:২৯ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : চলতি মাসের শুরুতে নেটফ্লিক্স মুভি ‘এক্সট্রেকশন’র ট্রেইলারে বুড়িগঙ্গার নদীর দৃশ্য দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন অনেকে। বাংলাদেশকে কোন কাহিনীর প্রেক্ষোপটে চিত্রিত করা হচ্ছে সেটা নিয়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ হলিউডভক্ত তরুণদের। তবে ছবির মুক্তির পর সে উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

গতকাল নেটফ্লিক্সে এ ছবির মুক্তির পর থেকে সমালোচনা ঝড় বইছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। অধিকাংশেরই অভিযোগ, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে এ ছবিতে। নায়কের বীরত্ব দেখাতে বাংলাদেশকে আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর মত একটা অবয়ব দেয়া হয়েছে ছবিতে।

পরিচালক সেম হারগ্রেভের এ ছবি দুই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। মুম্বাইয়ের জেলে থাকা এক মাফিয়ার সন্তানকে অপহরণ করে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণকারী ডনের লোকজন। সন্তানকে উদ্ধার করতে দুর্ধর্ষ আততায়ী ক্রিস হেমসওয়ার্থকে নিয়োগ করা হয়। উদ্ধার করে ফিরে যাওয়ার সময় দুর্ধর্ষ আততায়ী (নায়ক) ক্রিস হেমসওয়ার্থের গুলিতে শয়ে শয়ে সেনা, র‌্যাব ও পুলিশের মারা যাওয়ার দৃশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে অনেককে।

দেখে মনে হবে গোপন জগতের মাফিয়াদের পক্ষে শয়ে শয়ে পুলিশ, এলিট বাহিনীর ফোর্স ও সেনাসদস্যরা লড়ছে। আর তাদের মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে বীরের বেশে ফিরে যাচ্ছেন সে আততায়ী। যেন একজন আততায়ীর হাতে লুটিয়ে পড়ছেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। হক মাহফুজ নামের একজন লিখেছেন ”একশন মুভি হিসেবে এটাকে হয়ত ভালই বলা যেত, কিন্তু সারা পৃথিবীর সামনে এ মুভি বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা সহ্যসীমার বাইরে। বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা সোমালিয়ার মত দেখানো হয়েছে।

অনেকে এ ছবির রেটিং সাইটে কম রেটিং দিয়ে বিষয়টি প্রতিবাদ করতেও অনুরোধ করছেন। এমডি নাহিন খান নামের একজন লিখেছেন- এক্সট্র্যাকশন মুভিটা নিয়ে অনেক আশা ছিল। মুভিটি দেখার পর মনে হল এটি নেটফ্লিক্সের ভারতীয় বাজার ধরার একটা অপকৌশল মাত্র।