বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

অবরুদ্ধ ভূস্বর্গের ছবি তুলেই পুলিৎজার

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ৬, ২০২০, ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ


ঢাকা : ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভূতপূর্ব অবরোধের মুখে কাশ্মিরের চিত্র-কাহিনী বিশ্বের কাছে তুলে ধরে এবারে ৫৪তম পুলিৎজার পুরস্কার জয় করলেন তিন আলোকচিত্রী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপির এই তিন আলোকচিত্রী হলেন দার ইয়াসিন, মুখতার খান এবং চান্নি আনন্দ।

আলোকচিত্র জগতের অন্যমত সেরা হিসেবে বিবেচিত পুলিৎজার পুরষ্কার তারা জয় করলেন চিত্র-কাহিনী বা ফিচার ফিল্ম বিভাগে। ৫ আগস্ট কাশ্মিরের আধা স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং জম্মুকে কাশ্মির থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেয় ভারত।

একই সাথে হিমালয়ের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলকে অবরোধ করে ফেলা হয়। জারি করা হয় লাগাতর সান্ধ্য আইন, বন্ধ করে দেয়া হয় ফোন এবং ইন্টারনেট সেবা। হাজার হাজার মানুষকে করা হয় গ্রেফতার।

কাশ্মিরে কি ঘটছে তা বাইরের দুনিয়ার কাছে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার ভিন্ন এক লড়াইয়ে নামেন এ তিন আলোকচিত্রী।

কাশ্মিরের রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর সড়ক অবরোধ নানা ভাবে এড়িয়ে, কখনও অপরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, কখন বাজারের ব্যাগে ক্যামেরা লুকিয়ে রেখে কাশ্মিরি মানুষদের বিক্ষোভ এবং সেখানে পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং দৈনন্দিন জীবনের ছবি তোলেন তারা।

এ অভিজ্ঞতার কথা বলতে যেয়ে ইয়াসিন বলেন, ছবি তোলার জন্য সব সময়ই লুকোচুরি আশ্রয় নিতে হয়েছে। আর এতে ছবি তুলতে আগের চেয়েও আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন এবং কখনই চুপ থাকা যাবে সে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তারা।

ছবি তো তোলা হলও তা ইন্টারনেটবিহীন অবরুদ্ধ জনপদ থেকে পাঠানো হবে কি করে?

বিমানে করে কাশ্মির থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিলেন যারা তাদের মাধ্যমে ছবির এসডি কার্ড এবং হার্ড ড্রাইভ পাঠানোর ব্যবস্থা নেন তারা।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হেনেস্তার ভয়ে অনেকেই এ সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু কেউ কেউ এ সবের তোয়াক্কাই করেন নি। আর এদের হাত দিয়ে এই তিন আলোকচিত্রীর মর্মস্পর্শী আলোকচিত্রগুলো দিল্লির এপির দফতরে পৌঁছে যায়।