বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা ভাইরাস নিয়ে সৈয়দ মহিউদ্দিনের সাড়াজাগানো গান

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ৬, ২০২০, ৫:৩২ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতা আর তৎপরতা থেমে নেই নানা মহলে। এই মহামারিকে যুদ্ধ হিসেবে ধরে নিয়ে যে যার অবস্থান থেকে লড়ে যাচ্ছেন, রাখছেন স্বকীয় ভূমিকা। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবার এমন ভিন্নধর্মী গান রচনা করেছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা সৈয়দ মহিউদ্দিন।

চট্টগ্রামের ভাষায় রচিত এই গান এরইমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, জয় করে নিয়েছে চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়। পতেঙ্গা মডেল থানা চট্টগ্রামের সৌজন্যে এই গানে কথা, সুর আর সংলাপ সৈয়দ মহিউদ্দিনের, কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আলাউদ্দিন তাহের। গানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ উৎপল বড়ুয়া। গানটি মিউজিক ভিডিও হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে।

সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গানটিতে উঠে এসেছে করোনা ভাইরাস রোধে পুলিশ-চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ, পতেঙ্গা মডেল থানা পুলিশসহ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় হৃদয়স্পর্শী সুরে তুলে ধরেছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন। গানটিতে সরকারের প্রশংসনীয় ভূমিকার সাথে সাথে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশপাশি এটি নিয়ে গুজবের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হওয়ার জন্যও সোচ্চার হওয়ার কথা উঠে এসেছে।

৭ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের এই মিউজিক ভিডিওটি শুরু হয়েছে সংলাপের মধ্য দিয়ে যেখানে গীতিকার করোনা ভাইরাসের বাস্তবতা তুলে ধরে এটিকে যুদ্ধ হিসেবে অ্যাখা দিয়েছেন। পরে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় গানে গানে শুরু হয়:

করোনা ভাইরাসের লগে যুদ্ধ শুরু হই গেইয়ে…
দমন গরি থামন হত্তে কেউ তো আইজু ন জানে…
চইলতে ফিরতে মানুষে জেন জীবন রক্ষার আইন মানে…
সেবা গরের ডাক্তরে হয়েকজন তো গেলগইরে…
যুদ্ধমানে শহীদ গাজী বাচন ন তো মরণে..
নিরাদের রাইবার লাই দায়িত্ব পালনত যাই..
রাইতে দিনে হষ্ট গরের পুলিশর প্রশাসনে…

গানের এমন সাবলীল আর সহজ আঞ্চলিক ভাষা আর হৃদয়স্পর্শী সুর সহজেই চট্টগ্রামবাসীর মন জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার অনলাইন টেলিভিশন সি-প্লাসে এটি দেশ-বিদেশের ২ লাখ ৮৩ হাজার দর্শক দেখেছেন। এটির শেয়ার হয়েছে পাঁচ হাজার বার। এছাড়াও গানটির শিল্পী আলাউদ্দিন তাহের আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগীত সমঝদারদের ফেসবুক থেকে ব্যাপক দর্শক আর লাইক শেয়ার পেয়েছে এই গানটি।

সৈয়দ মহিউদ্দিনকে জীবনমুখী আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা বলা হয়। আধুনিক গানের ডামাডোলে যখন বার বার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান আকর্ষণ হারাতে বসেছিল তখনই হাতেগোনা যে কজন গীতিকার-সুরকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আবারও প্রাণ দিয়েছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন তাদের মধ্যে একজন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সংগীতগুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। তাঁর কথা ও সুরে শেফালী-শ্যামের বহু গান আজো দাগ কাটে শ্রোতাদের হৃদয়ে, হয়েছে কালজয়ী। শেফালী-শ্যাম যুগের পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আজো দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করিয়ে দেয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সৈয়দ মহিউদ্দিনের।