বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া পরিশোধ করতে চবি প্রশাসনের প্রতি দাবি

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০, ১২:৫০ অপরাহ্ণ


চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসনের কাছে করোনাভাইরাসের আপদকালীন সময়ে মেস ও কটেজ ভাড়া পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে দর্শন বিভাগের (১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষের জহিরুল ইসলাম, সমাজতত্ত্ব বিভাগের (১৫-১৬) শিক্ষাবর্ষের রুমেন চাকমা ও অর্থনীতি বিভাগের (১৫-১৬) শিক্ষাবর্ষের দেওয়ান তাহমিদ এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও (চবি) গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের বাইরে থেকে আগত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ হলে থাকেন, বাকিরা ক্যাম্পাসের আশপাশে ও চট্টগ্রাম শহরের ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন কটেজ ও মেসে ভাড়া থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা পড়াশোনা করেন। অনেক শিক্ষার্থী টিউশন করিয়ে নিজের খরচ জোগান দেন এবং অনেকে পরিবারেও আর্থিক অবদান রাখেন। বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারির এই বিশেষ পরিস্থিতিতে এরকম অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তার ঠিক নেই। এই সময়ে মাসের পর মাস জমতে থাকা মেস/কটেজ ভাড়া পরিশোধ করা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এদিকে কোনো কোনো মেস/কটেজ মালিক এই সময়েও ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, যা তাদের জন্য অমানবিক কষ্টের কারণ হচ্ছে।

দুই দফা দাবি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন মেসভাড়া/কটেজভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে। চট্টগ্রাম শহর এবং ক্যাম্পাসের আশপাশে থাকা মেস/কটেজে অবস্থানরত আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে। এবং এই সময়ে যেন ছাত্রদের ভাড়া পরিশোধের তাগিদ দেয়া না হয়, এ ব্যাপারে ক্যাম্পাসের আশপাশের মেস/কটেজ মালিকদের সাথে সমন্বয় করে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। প্রশাসন সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি বলেই হাজারো ছাত্রকে প্রতিমাসে শহরে ও ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস/কটেজে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। তাই এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তত অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন মাসগুলোর মেসভাড়া প্রশাসনকে পরিশোধ করতে বলা শুধু মানবিকই নয়, বরং একটি যুক্তিসংগত দাবীও। এটি আমাদের প্রাপ্য।

গত ৫ এপ্রিল চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এফসি ও সিন্ডিকেট সদস্যদের অনুমতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্নখাতের ব্যয় সংকোচন করে এ টাকা অনুদান হিসেবে নেওয়া হয়। না চাইতেই যদি ১ কোটি টাকা অনুদান দেয়া যায়, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে তাদের জন্য কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া যাবে না কেন? তাছাড়া অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের এই প্রয়োজনও সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসন তাদের আবাসন নিশ্চিত করতে পারেনি বলেই। বিভিন্ন খাতের ব্যয় সংকোচন বা বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে আমাদের দাবীটুকু পূরণ করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি মূলত প্রশাসনই ঠিক করবে, কী পদ্ধতিতে তারা অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভাড়া পরিশোধের বিষয়টি সমাধান করবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ঘোষণা দিতে প্রশাসনের প্রতি আমরা দাবি জানাই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারি আমরা করবো।

তিনি বলেন, আমরা বাড়ির মালিকদের সাথে কথা বলে কি করা যায় করবো।