রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রকি বড়ুয়ার নিরাপত্তায় ৬ ভারতীয় পুলিশ!

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১৩, ২০২০, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : সুদর্শন, হ্যান্ডশাম রকি বড়ুয়া বীরদর্পে পা ফেলছেন। গায়ে লালকাপড় জড়ানো। পায়ে দামি সেন্ডেলের সাথে মোজা। ভাবখানা এমন, যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কেউ! এমন হবেই না বা কেন ভাব?

ডানে-বামে, সামনে, পেছনে যদি পুলিশ প্রটোকল আর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী থাকে, ভাবটা এমনই হওয়ার কথা। হ্যাঁ, ভয়ঙ্কর শ্রেণীর প্রতারক রকি বড়ুয়া গ্রেফতার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে তার অসংখ্য ছবি। সেই ছবিগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত একটি ছবির গল্প এটি; যেখানে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে রকি বড়ুয়াকে। ভারতীয় ৬ পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, কর্ডন করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন মোহাম্মদপুররের একটি বাসা থেকে এক রক্ষিতা, পাঁচ সহযোগী. বিদেশি পিস্তল, মদ, ৩৫ লাখ টাকার এফডি্আর, ব্ল্যাঙ্ক স্টাম্প ও প্রতারণার বিভিন্ন কাগজপত্র, ছবিসহ রকি বড়ুয়ার গ্রেফতার কাহিনী এখন শুধু চট্টগ্রাম নয়, টক অব দ্যা কান্ট্রি। এমনকি ভারতেও আলোচিত হচ্ছে রকি-কাহিনী।

সবখানে মূলত তার ছবি-ব্যবসা, ছবিকেন্দ্রিক আলোচনা। দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছাড়াও বাংলাদেশ-ভারতের মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে তার অসংখ্য ছবি এখন কৌতূহলীদের হাতে হাতে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রকি বড়ুয়াকে আগ বাড়িয়ে কারো সঙ্গে ছবি তুলতে। অবশ্য এর মধ্যে কয়েকটি ছবি আছে, যেগুলো নিয়মিত যোগাযোগ ও আড্ডাসূত্রে তোলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

কিন্তু অনেকগুলো ছবির মাঝে ওই একটি ছবিই ব্যতিক্রম! যেখানে রকি বড়ুয়াকে বিশেষভাবে পুলিশ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যে প্রটোকল সাধারণত কোনো দেশের ভিভিআইপিরা পেয়ে থাকেন। বাস্তবে রকি বড়ুয়া সেই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিলেন না, এরপরও কীসের ভিত্তিতে তিনি পুলিশ প্রটোকলে ছবি তুললেন সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করেছে একুশে পত্রিকা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলায় অভাবের তাড়নায় ভারতের দিল্লী পাড়ি দেওয়া রকি বড়ুয়ার আশ্রয় নেন সেখানকার ঐতিহ্যবাহী জগৎজ্যোতি বৌদ্ধ বিহারে। ধীরে ধীরে তিনি সেই বিহার-প্রধান ধর্মবীর পালের কাছাকাছি চলে আসেন। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি এমনিতেই রিলিজিয়াস রাজনৈতিক দল। ধর্মীয় গুরুদের প্রতি তাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা অসীম।  সে কারণে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সদস্য, রাজ্যপাল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ জগৎজ্যোতি বিহারে যাতায়াত করতেন। ধর্মবীর পালের সান্নিধ্য নিতেন। যারাই বিহারে যাওয়া-আসা করতেন তাদের সাথে সুচতুর রকি বড়ুয়ার ছবি তোলার কাজটি ছিল অবধারিত। এজন্য মোটকথা ওঁৎ পেতে থাকতেন তিনি।

জগৎজ্যোতি বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ধর্মীয় গুরু রাজ্যসভার সদস্য হন একসময়। এসময় ঢেলে সাজানো হয় ধর্মবীর পালের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিহারে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা ছাড়াও ধর্মবীর পাল বাইরে চলাফেরা করার সময়ও থাকতো পুলিশবেস্টনি। পুলিশবেস্টনি থাকা রকি বড়ুয়ার আলোচ্য ছবিটিও জগৎজ্যোতি বিহারের প্রধান ফটকে। যে ফটক দিয়ে বিহার থেকে পুলিশ পাহারায় বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে রকি বড়ুয়াকে।

কারো কারো মতে, গুরুর নিরাপত্তা থাকায় পুলিশদের ধর্মীয় আবেগ, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে কাজে লাগিয়ে নিজের ছবি ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কৌশলে এমন দৃশ্যে ছবি তুলে নিয়েছেন রকি বড়ুয়া, এটি একটি ‘অ্যারেঞ্জ পিকচার’।

আবার কেউ বলছেন, ধর্মবীর পাল প্রয়াত হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য বিহারের শীর্ষ পদটি হাতিয়ে নিয়েছিলেন রকি বড়ুয়া। আর সেই সময়টা বাস্তবেই এমন পুলিশ প্রটোকল পেয়েছিলেন তিনি। বিহারের শীর্ষপদে বহাল হয়েই তিনি শুরু করেছিলেন লাল কাপড় পরিয়ে আদামপাচারের কাজ। বাংলাদেশের বহু যুবককে ভিক্ষু সাজিয়ে জাপান, চীনসহ উন্নত দেশে পাচারে ধরা খাওয়ায় ভারত সরকার তার পাসপোর্ট ও ভিসা বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আর এতে একূল-ওকূল দুকূল গেলো তার!

এমন তথ্য পাওয়া গেছে রকি বড়ুয়াের সাথে একসময় যোগাযোগ ছিল এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে।