বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রকি বড়ুয়ার নির্দেশে বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুরে অংশ নেয় তিনজন

আদালতে রকি বড়ুয়ার সহযোগী কামালের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ১৬, ২০২০, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

এ কে আজাদ, লোহাগাড়া : প্রতিপক্ষদের ফাঁসাতে রকি বড়ুয়ার নির্দেশে লোহাগাড়ার চরম্বায় বিবিবিলা বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুরের ঘটনায় যুক্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রকি বড়ুয়ার অন্যতম সহযোগী কামাল উদ্দিন।

শনিবার (১৬ মে) আদালতে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য দিয়েছেন তিনি।

কামাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকার বিবিবিলা শান্তি বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করা হয় রকি বড়ুয়ার নির্দেশেই। আর ভাংচুরের পরিকল্পনা হয় সেই রকি বড়ুয়ার বাড়িতেই। এ বিহার ভাংচুরের পুরো ঘটনার সঙ্গে রকি বড়ুয়ার ১৫-২০ জন সহযোগী জড়িত থাকলেও বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুর কাজে মুলত ৩ জনই অংশ নেন। অন্যরা ভাংচুরের সহযোগী ও পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেন।

পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধকে ধর্মীয় সংঘাতে রূপ দিয়ে ফায়দা লুটতে পরিকল্পনা করেন রকি বড়ুয়া। ঘটনার আগে ৩ মে দিবাগত রাতে তার বাড়িতেই বিহার ভাংচুরের পরিকল্পনা এবং এতে কারা অংশ নেবেন তা নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যেই বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালানো হয়।

এছাড়াও ৪ মে বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুসারীদের দিয়ে ব্যাপকভাবে গুজব ছড়াতে থাকেন রকি বড়ুয়া।

বৃহস্পতিবার রকি বড়ুয়াসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন কামাল উদ্দিন।

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আসামী কামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি বৃহস্পতিবার লোহাগাড়া থানায় রকি বড়ুয়াসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি মামলার অন্যতম আসামি। কামাল উদ্দিন উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকার জাফর আলমের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে কামাল উদ্দীন উল্লেখ করেন তিনিসহ মোট ৩ জন বৌদ্ধ বিহারে সরাসরি ভাংচুরে অংশ নেন। এ ভাংচুর কর্মকাণ্ডের পাহারায় রকি বড়ুয়ার নির্দেশে আরও ১৫-২০ জন বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দেন। হামলার আগে রকি বড়ুয়ার বাড়িতে সবাইকে নিয়ে বৈঠক হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, কামাল উদ্দিন হামলায় জড়িতদের নাম জানিয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অস্ত্র-মাদকসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা রকি বড়ুয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ৪ মে ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল রকি বড়ুয়া তার বাহিনী দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।