শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

ঘ্রাণশক্তি লোপ, করোনার নতুন লক্ষণ?

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মে ২২, ২০২০, ৯:২০ অপরাহ্ণ

ডা. সঞ্জয় দাশ : করোনা দেশে বসতি গড়েছে প্রায় তিন মাস হতে চলেছে। এই রোগের উপসর্গ আমরা ইতিমধ্যে কমবেশি জেনে গেছি। মূলত জ্বর, গলাব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্টকে করোনার মূল উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে করোনার atypical বা অপ্রচলিত একটি উপসর্গ হলো “Anosmia” বা “ঘ্রাণ শক্তি লোপ পাওয়া”।

ইতিমধ্যে চীন, রাশিয়া, জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রায় ৩০% রোগীর ক্ষেত্রে এই উপসর্গ দেখা গেছে। এইসবের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেনের NHS ( National Health Service) গত ১৮ মে থেকে করোনা উপসর্গের তালিকায় “Anosmia” বা “ঘ্রাণশক্তি লোপ” পাওয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

এই উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী হঠাৎ করে অনুভব করতে থাকেন উনি কোন গন্ধ অনুভব করছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই সাথে হাল্কা সর্দি, জ্বর বা করোনার অন্যান্য উপসর্গ থাকতে পারে। এই উপসর্গের ৩ -৫ দিনের মাথায় রোগীর নতুন উপসর্গ দেখা দেয় তা হলো “Ageusia” বা “স্বাদের অনুভূতি নষ্ট” হয়ে যাওয়া। রোগী মিষ্টি, তিক্ত বা লবণাক্ত কোনোপ্রকার স্বাদই অনুভব করেন না। এই উপসর্গের পরবর্তীতে রোগী দেহে করোনার তীব্র উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে অথবা রোগী ৭-১৪ দিনের মাথায় এমনিতেই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

কারা এই উপসর্গে বেশি আক্রান্ত হতে পারেন

১. smokers বা ধূমপায়ীগণ। ২. Chronic Rhinosinusitis বা দীর্ঘমেয়াদি নাক বা সাইনাসের রোগে আক্রান্ত রোগীগণ। ৩. বয়স্ক রোগী যাদের বয়স ৬০ বা তদুর্ধ। ৪. ডায়বেটিস, প্রেসার এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন ক্যান্সারে আক্রান্ত, কিডনি বা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা রোগী) এমন ব্যক্তিগণ।

কেন এই উপসর্গটি অত্যন্ত মারাত্মক

এই উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তি বেশিরভাগ সময়ই অসচেতন থাকেন বা উপসর্গ বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে তিনি নিজের অজান্তেই সমাজের অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে দেন। “King’s College London” এর এক সমীক্ষায় এই উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের দ্বারা “Community Transmission” বা “সামাজিক সংক্রমণের” হার সর্বোচ্চ বলে দাবি করেছে।

এই উপসর্গে আক্রান্ত হলে করণীয় এই মুহূর্তে এই উপসর্গে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসক এর পরামর্শ মোতাবেক করোনার জন্য সুনির্দিষ্ট “RT- PCR” পরীক্ষা করাতে হবে। “ENT UK” এর সর্বশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী টেস্ট নেগেটিভ আসলেও এই উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের ৭ -১৪ দিন আইসলেশনে থাকা উচিৎ এবং চিকিৎসক এর পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করা উচিৎ। আমাদের দেশে প্রথম দিকে এই ধরনের উপসর্গের রোগী পাওয়া না গেলেও বর্তমানে এই উপসর্গের রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই টেস্ট এর রেজাল্ট পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে।

তাই দয়া করে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকরে শরণাপন্ন হোন। বর্তমানে “RT -PCR” টেস্ট চট্টগ্রাম শহরে হচ্ছে মূলত তিনটি জায়গায় ১. ফ্লু কর্নার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২. চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ৩. সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ফৌজদার হাট, চট্টগ্রাম। আগ্রহী রোগীরা এই তিনটি স্থানে যোগাযোগ করতে পারেন।

ডা. সঞ্জয় দাশ : এফসিপিএস (ইএনটি), এমসিপিএস (ইএনটি), বিসিএস (স্বাস্থ্য) আবাসিক সার্জন (ইএনটি),  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।