রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

নিষ্ঠুর করোনায় অজাতশত্রু এক নিস্পাপ মানুষের বিদায়

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মে ২২, ২০২০, ১০:১১ অপরাহ্ণ

হোসেন আবদুল মান্নান : আজ সকালে আমাদের প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী তৌফিকুল আলম (অতিরিক্ত সচিব) চলে গেলেন। ইন্নালিল্লাহ…রাজিউন। তিনি পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম ভাইরাস করোনায় আক্রান্ত হয়ে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন। একজন সহজ-সরল, মানবিক ও সংবেদনশীল মানুষ ছিলেন তৌফিক। আমি এবং আমার পরিবার তার কাছে ঋণী হয়ে আছি।

১৯৯১ সালের শেষ দিকে তৌফিকের কর্মস্থল ছিলো জেলাপ্রশাসকের কার্যালয় কিশোরগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ আমার নিজ জেলা। আমার পদায়ন তখন চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টিতে আমার শশুরালয়ে তৌফিকসহ অন্যান্য বন্ধুদের তখন যাতায়াত ছিলো। আমার শশুর মহোদয়ের (আমার প্রয়াত মামা) সাথেও তাদের চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রায়শই বাসায় যাওয়া-আসা হতো। অনেক সময় অফিসে এসে কথা হলে বলতো, গতকালই তোমার শশুর-শাশুড়িকে দেখে এসেছি। উনারা ভালো আছেন। বাসায় ফোন না থাকায় তৌফিকরাই ছিল তখন আমার খবরের বাহক।

আমার স্ত্রী তখন কিশোরগঞ্জে। একদিন দুপুর বেলায় সে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। Food poisoning থেকে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখনো কিশোরগঞ্জের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এত মানসম্মত ছিল না। স্থানীয়ভাবে জানানো হলো, রোগীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বাসায় তখন কেউই ছিলো না। প্রাইমারি স্কুলে পড়া আমার স্ত্রী’র ছোট ভাই মারফত তাকে এ খবর পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তৌফিক আমার স্ত্রীকে ময়মনসিংহে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে পৌঁছার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, আর অল্প সময় পরে আসলে কী হতো বলতে পারছি না।

আজ তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমার স্ত্রীও গভীরভাবে শোকাভিভূত। বাকরুদ্ধ সে। মাহে রমজান এবং শুক্রবারের পবিত্র দিনে চিরবন্ধুবৎসল, অজাতশত্রু, এক নিস্পাপ মানুষের প্রতিকৃতি হিসেবেই তৌফিক পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তার স্ত্রী এবং দু’ সন্তানকে সান্ত্বনা দেয়ার কোনো উপযোগী শব্দ এ মুহূর্তে আমার ভাষায় খুঁজে পাচ্ছি না। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন ।

হোসেন আবদুল মান্নান : সচিব ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেম ভূমি সংস্কার বোর্ড