শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

যে কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ২৩, ২০২০, ৭:৪১ অপরাহ্ণ


ঢাকা : দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে প্রতিদিন। এ সময় ঈদকে ঘিরে বাজার-ঘাট খুলে দেয়া বা জনচলাচলে বাধা শিথিল করার কারণে ব্যাপক হারে সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজধানী ও পার্শবর্তী এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে কম আক্রান্ত জেলাগুলোকে। এর পর আত্মীয়-স্বজন পাড়া-পড়শিদের সাথে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা করে যখন এসকল মানুষ ঢাকা ফিরবেন তখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে করোনায় মোট শনাক্ত ৩০ হাজার ছাড়ালেও এখনো ৪৪ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০-র নিচে রয়েছে। আর মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রাজধানী ঢাকায়। এই অবস্থায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢাকা ছাড়ার ফলে তুলনামূলক কম আক্রান্ত জেলাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, এবার যদি সারাদেশে কম করে এক লক্ষটি ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় তাহলেও সেখান থেকে গড়ে দু’জন করে অন্তত: দু’লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হবার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে জনচলাচলের ব্যাপক সুযোগ করে দেবার ফলে কম আক্রান্ত জেলাগুলোতে সংক্রমণের বীজ বোনা হয়ে যাবে এবং ফলে গ্রামেও গুচ্ছ গুচ্ছ সংক্রমণ দেখা দেবে।

একই রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইইডিসিআর উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন। লকডাউন শিথিল করার কারণে দশ দিন আগের ঢেউ এখন লাগছে। দিন দিন মৃত্যু আর আক্রান্ত বাড়ছে। আর এখন ঈদের জন্য বাজার, কারখানা, ফেরীঘাট বা রাস্তায় ব্যাপকভাবে জনসমাগমের যে সুযোগ করে দেয়া হল তার ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুতই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাবে।

আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়ে রেখেছিলেন, মে মাসে দেশে ব্যাপক হারে বাড়বে কোভিড ১৯ সংক্রমণ। বাস্তব চিত্রও মিলছে সেই পূর্বাভাসের সঙ্গে। দেশের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত হয়েছেন গত ২ সপ্তাহে। প্রায় প্রতিদিনই গড়ছে আক্রান্ত কিংবা মৃতের কোনো না কোনো রেকর্ড।

এ অবস্থায় যখন প্রয়োজন ছিল সর্বোচ্চ সতর্কতা, তখনই আসে শিথিলতা। শ্রমঘন পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেবার পর ইফতার বাজারের অনুমতি, ঈদ সামনে রেখে শপিংমল খোলা, সবশেষ পুলিশের চেকপোস্ট সরিয়ে বাধাহীন যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়া, রাস্তায়-ফেরিঘাটে ভিড় সামলানো- এসব সমন্বয়হীনতার নজির উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।