শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ঈদ উদযাপন

প্রকাশিতঃ রবিবার, মে ২৪, ২০২০, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার কিছু এলাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সকালে এসব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভিন্ন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে এবারের ঈদ। ঈদ জামাতে ছিল না বাইরের মুসল্লীদের ভিড়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সোমবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

আজ রোববার দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলার অর্ধশত গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সাতকানিয়ার মীর্জাখীল দরবার শরীফে। দরবারের সাজ্জাদানশীন মাওলানা ড. মোহাম্মদ মকছুদুর রহমানের ইমামতিতে ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দরবার শরীফের ছোট শাহজাদা মোহাম্মদ মসউদুর রহমান জানান, দরবারের অনুসারীরা নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে নামাজ আদায় করেছেন। করোনার কারণে ভিন্ন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে এবারের ঈদ। এছাড়া চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া মমতাজিয়া দরবারে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মাদারীপুরে হযরত সুরেশ্বরীর (রহ.) ভক্ত-অনুসারী ৪০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এলাকার দুটি মসজিদে সকাল ৯টায় একই সঙ্গে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর খাজা শাহ সূফী সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন জানান, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড়শ’ বছর আগ থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা, জাজিরা, মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চরকালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচরকাতলা, চরগোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারচর, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, খাসেরহাট, রামারপোল, ছবিপুর, ছিলিমপুর, ক্রোকিরচর, সিডিখান, কয়ারিয়া, রমজানপুর, বাটামারা, রাজারচর, শিবচরের পাচ্চর ও স্বর্ণকারপট্রিসহ মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার অন্তত ৪০ গ্রামের ৩০ হাজার মুসলিম আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে।

শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার ২৯ গ্রামে হযরত সুরেশ্বরী (রা.) অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মস‌জি‌দে ছোট আকা‌রে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়ে‌ছে।

প্রতিবছর প্রধান বড় জামায়াত শুরু হয় নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত সুরেশ্বর দরবার শরীফ মাঠ প্রাঙ্গণে। কিন্তু ক‌রোনাভাইরা‌সের কার‌ণে এ বছর সুরেশ্বর দরবার শরীফের প‌বিত্র দায়রা শরীফ জা‌মে মস‌জি‌দে জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়।

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রবিবার দিনাজপুরের কয়েকটি জায়গায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দিনাজপুরের সদর, কাহারোল, চিরিরবন্দর এবং বিরল উপজেলার কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর শহরের চুড়িপট্ট এলাকার পার্টি সেন্টারে প্রায় আড়াই শতাধিক পুরুষ ও নারী ঈদুল ফিতরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেছেন।

পাশাপাশি চিরিরবন্দর উপজেলার রাবারড্যাম, বিরল, কাহারোলের কিছু সংখ্যক মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন বলে জানা যায়।

এছাড়া ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ভোলাসহ আরও কয়েকটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পীর এবং ভিন্ন মাজহাবের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছে বলে জানা গেছে।