শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই কিট ব্যবহার করতে পারবে গণস্বাস্থ্য

প্রকাশিতঃ সোমবার, মে ২৫, ২০২০, ১০:৩১ অপরাহ্ণ


ঢাকা : করোনা শনাক্তকরণের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত র‍্যাপিড ডট ব্লট কিটের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। এ পরীক্ষায় সফলতা পেলে তা ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। তারপরই গণস্বাস্থ্য তাদের উদ্ভাবিত কিট সবার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, তার আগে নয়।

তবে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) অনুমোদন সাপেক্ষে অভ্যন্তরীণ গবেষণা (ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) কাজের অংশ হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে। সে হিসেবেই আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত করোনার লক্ষণ আছে এমন ৫০ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

আজ (সোমবার) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জি আর কোভিড-১৯ রেপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নমুনা সংগ্রহ গবেষণার অংশ, কোনো সেবা বা রোগ নির্ণয়ের অংশ নয়।’

উল্লেখ্য, ঠিক একমাস আগে ২৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তকরণ কিটের নমুনা জনসমক্ষে প্রকাশ করে এবং সেদিনই তা ঔষুধ প্রশাসনের নিকট হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেদিন সরকারের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেননি। পরদিন এ কিটের উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের একটি প্রতিনিধি দল কিটের নমুনা নিয়ে ঔষধ প্রশাসনের দরজায় হাজির হলেও তারা সেগুলো গ্রহণ করেনি। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তৃতীয় একটি পক্ষ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এর মাধ্যমে কার্যকারিতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে, গণস্বাস্থ্যের এ কিটের বিষয়ে গত এক মাসেও সরকারের কাছ থেকে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম বলেন, করোনা পরিস্থিতির বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রোগ নির্ণয়কারী একটি কিট নিয়ে সরকার যা করছে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত এ কিট শরীরে প্রয়োগ হবে না। তা্ই এর কোনো পার্শ প্রতিক্রিয়া ঘটার সম্ভাবনাও নেই। তাছাড়া, এরকম র‍্যাপিড অ্যাকশন কিটের ব্যবহার অন্যান্য দেশে হচ্ছে প্রচুর। এ অবস্থায় এ কিটটির সরকারি অনুমোদন নিয়ে সরকারের কোনো মহলের রাজনৈতিক মতলব বা ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এ কিটের উদ্ভাবনকারী টিমের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) যে অনুমতি আছে তাতে গবেষণা কাজের জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে পারব এবং ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ব্যবহার করতে পারব। এ জন্য আমরা কিছু করোনা পজেটিভ ও নেগেটিভ স্যাম্পল সংগ্রহ করা আমাদের প্রটোকলের আওতায় পড়ে। সে হিসেবে আগামীকাল নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) যে ট্রায়াল চলছে, সেটা শেষ হলে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের একটা অনুমোদন পেতে হবে। তারপরই আমরা রোগীদের সেবায় এ কিট ব্যবহার করতে পারব।

ড. বিজন কুমার শীল আশা করছেন, ঈদের ছুটির পরে তারা ঔষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়ে যাবে।