শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

‘অনুমোদন আসুক বা না আসুক, ৩-৪ দিনের বেশি অপেক্ষা করব না’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ২৭, ২০২০, ৭:৪১ অপরাহ্ণ


ঢাকা : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজের বাসায় অবস্থান করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষার কাজ তার হাসপাতালে আগামী তিন-চারদিন পরেই শুরু করা হবে। তাতে সরকারের অনুমোদন আসুক বা না আসুক।

আজ (বুধবার) দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর যখন ডেঙ্গু হয়েছিল, তখন ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট অনুমোদন দিতে ওষুধ প্রশাসনের একদিন সময় লেগেছিল। আর এবার করোনার রেমডেসিভির ইনজেকশন অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৭ দিনে। অপরপক্ষে গণস্বাস্থ্যের কিট অনুমোদন দিতে তিন মাস লাগিয়ে দিয়েছে। এখনও এর অনুমোদন হয় নাই।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, (মঙ্গলবার) থেকে করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করব। তখন ওষুধ প্রশাসন থেকে আমাদের অনুরোধ করেছিল যে, এটা যেন বন্ধ রাখি। ওষুধ প্রশাসন কেন এই অনুরোধ করেছিল, তা জানি না। আমরা আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করব। তারপর আমরা আরম্ভ করে দেব, যা ইচ্ছা করে, করুক।’

তিনি বলেন, ‘বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ইতোমধ্যে আমাদের দেয়া ৩০০ কিটের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তারা ইচ্ছা করলে এর ভিত্তিতে এখন আমাদের অনুমোদন দিতে পারে। ওষুধ প্রশাসন বিএসএমএমইউকে অনুরোধ করলে তারা ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্টটা দিতে পারত। তারপরও তারা কতটা অনৈতিক, অর্বাচীন কাজ করছে, সেটা প্রমাণের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি। তবে তিন-চার দিনের বেশি অপেক্ষা করব না।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে সরকার যা করছে তা একরকম নিম্ন মানের গ্রাম্য রাজনীতি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা বা জীবন নিয়ে এরকম খামখেয়ালিপনা জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন সরকার করতে পারে না।

ওদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তকরণ কিট নিয়ে নানা বিতর্কের বিষয় উল্লেখ করে মেডিসিন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নৌশিন নওয়ার বলেন, যদিও পিসিআর পদ্ধতিতে করানা শনাক্তকরণ পদ্ধতিকে ‘গোল্ডেন স্টান্ডার্ড’ বলা হয়, তা হলেও কিট দিয়ে কম মূল্যে দ্রুত পরীক্ষার পদ্ধতি হিসেবে গণস্বাস্থ্যের কিটের ব্যাপারে দ্রুততম সময়ের সিদ্ধান্ত জানানো উচিত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাজের (ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) অংশ হিসেবে নিজেদের উদ্ভাবিত কিট ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে এর আগের দিন সোমবার (২৫ মে) ওষুধ প্রশাসন চিঠি দিয়ে তা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে করোনা শনাক্ত স্থগিত ঘোষণা দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে অতি দ্রুত অনুমোদন ও ওষুধ প্রশাসন সাড়া না দিলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে স্থগিত থাকা করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করার এ ঘোষণা দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

ইতোমধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে তাকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিসের পর ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড গ্রুপের ২০০ মিলি প্লাজমা দেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভালো আছি। সবাই দোয়া করবেন।’

তার অসুস্থতার খবরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা তার খোঁজখবর নিয়েছেন। গতকাল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য ফল ও ফুল পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।