শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা চিকিৎসা: রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী এরা কারা, প্রশ্ন সুজনের

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ৩০, ২০২০, ৯:১৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনা চিকিৎসায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে অধিগ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শনিবার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনের দেয়া চিঠিতে বিষয়টি উঠে আসে।

এতে তিনি লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই চট্টগ্রাম শহরের সাথে আপনার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিবিড় আবেগ এবং অনুভূতি জড়িত। আপনি ক্ষমতায় এসেই এই শহরের উন্নয়নের দায়িত্বভার কাঁধে নিয়েছিলেন। আজ করোনাকালে যখন সারাদেশের মানুষ জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে লড়ে যাচ্ছে এই দুঃসময়ে আপনি চট্টগ্রামের মানুষের কথা ভোলেননি তাই আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

খোরশেদ আলম সুজন উল্লেখ করেন, বরাবরই আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেসকল নির্দেশনা দেওয়া হয় চট্টগ্রামে কেন যেন কে বা কারা পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হতে দেয় না। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর সাথে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের চুক্তি হয়েছিল যে তারা প্রত্যেকটি হাসপাতালে ১০টি করে করোনা বেড এবং ৩টি আইসিইউ করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ দিবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। যার কারণে অনেক রোগী শুধুমাত্র আইসিইউ সুবিধার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী এরা কারা?

তিনি লিখেছেন, করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রোগীর সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়ে। এবং দিন যাওয়ার সাথে সাথে ক্রিটিকাল রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে গেলো যে কোন রোগী মারা গেলে তাকে কবর দেওয়ার পর বেড খালি হলে তবেই বেডে অন্য রোগী ঢুকানো হচ্ছে। এর আগে প্রয়োজন হলেও ঢুকানো সম্ভব হয়নি ভেন্টিলেশনের অপ্রতুলতার কারণে। চট্টগ্রামের অনেক মানুষ শুধুমাত্র ভেন্টিলেশনের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষের এই সংকটকে উপলব্ধি করে আরো দুইটি বিশেষায়িত হাসপাতালের অনুমোদন দিয়েছেন সেজন্য আপনার প্রতি চট্টগ্রামবাসী আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

বর্তমানে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সমস্যা নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা উল্লেখ করে সুজন লিখেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান করতে না পারলে চট্টগ্রামকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। অতি জরুরি ভিত্তিতে এই সংকট সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংকট সমাধানে আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। এছাড়াও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের একটি সেকশন ১০০টি বেড ও পর্যাপ্ত আইসিইউ বেডসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত করে রাখলেও ডাক্তারদের একাংশের অসহযোগিতার দরুণ তারা এটা কোনভাবেই চালু করতে পারছেন না।

‘ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য যেমন আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে ঠিক তেমনি মা ও শিশু হাসপাতালকে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। কেননা এটা করোনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একটা রেডি হাসপাতাল। শুধু দরকার আমাদের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের সহযোগীতা। এছাড়াও রেলওয়ে হাসপাতাল অনেক বড় একটা হাসপাতাল। এই হাসপাতালটিও করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্দরেও বিশাল হাসপাতাল স্থাপনা পড়ে রয়েছে, সেখানে কোন লোককে তারা চিকিৎসা দেয় না।’

এই হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানান খোরশেদ আলম সুজন।