শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

চট্টগ্রামে গণপরিবহন চালুতে ১৬ শর্ত

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ৩০, ২০২০, ১০:৪১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে এক সিটে একজন বসা, গাড়ির দরজা বন্ধ রাখাসহ ১৬টি নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। এসব নির্দেশনা অমান্য করা হলে ট্রাফিক পুলিশ সংশ্লিষ্ট গণপরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

আজ শনিবার দুপুর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে গণপরিবহন মালিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। সেই বৈঠক থেকে এসব সিদ্ধান্ত আসে। শর্তগুলো হচ্ছে-

১. জীবাণুনাশক দ্বারা প্রত্যেকটি গাড়িকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সম্ভব হলে প্যাসেঞ্জার নামার সাথে সাথে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে।
২. পরিবহনে স্যনিটাইজার রাখা নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
৩. গাড়ির ড্রাইভার, হেলপার ও যাত্রীদের প্রত্যেকে মাস্ক ব্যবহার করবে। হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভব হলে ফেসশিল্ড ব্যবহার করতে হবে।
৪. ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশির লক্ষণ থাকলে কিংবা অসুস্থ এরূপ কোনো ড্রাইভার বা শ্রমিককে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে।
৫. গাড়ির দরজা অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে।
৬. গাড়ির অভ্যন্তরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এক সিটে একজন বসবে। পাশপাশি সিটে যেন দুজন প্যাসেঞ্জার না বসে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. গাড়ি ছাড়ার পূর্বে হ্যান্ডমাইকে বা মুখে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে কন্ডাক্টর সকলকে ধারণা প্রদান করবে।
৮. গাড়িতে কখনোই দাড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না।
৯. গাড়ির অভ্যন্তরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. গাড়ি বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত কোথাও দাঁড়াবে না। হুড়োহুড়ি করে প্যাসেঞ্জার তোলা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে তুলতে হবে।
১১. ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে।
১২. গাড়ির ডকুমেন্ট আপটুডেট থাকতে হবে। লকডাউনের কারণে কেউ দলিলাদি নবায়ন না করতে পারলে নবায়ন করে গাড়ি চলাবে।
১৩. অবৈধ কোনো গাড়ির চলাচল করবে না। গ্রাম সিএনজি, নিলাম সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিক্সা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
১৪. দিন শেষে প্রত্যেকটি গাড়িকে জীবাণুনাশক দ্বারা যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
১৫. কোভিড নিয়ন্ত্রনে গণপরিবহন বিষয়ক সকল সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
১৬. সকল ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার উর্ধ্বগতিতে রয়েছে। এমতাবস্থায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপরিবহন চালু হচ্ছে। কিন্তু গণপরিবহনে আগের মতো গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা যাবে না। এ ছাড়া মানতে হবে ১৬টি নির্দেশনা। এসব বিষয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মালিকপক্ষের বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে কি না তা পুলিশ মনিটরিং করবে। অমান্য করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, বাংলাধেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. মুসা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতিরি মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রমুখ।