শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭

চট্টগ্রামের সর্বত্র চিকিৎসাসেবার জন্য হাহাকার : সুজন

প্রকাশিতঃ রবিবার, মে ৩১, ২০২০, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় নানারকম অসঙ্গতি, অব্যবস্থাপনা লেগেই রয়েছে, সর্বত্র চিকিৎসাসেবার জন্য হাহাকার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

রোববার সকালে মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন সুজন।

এ সময় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকেও করোনাভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এতো সব উদ্যোগের পরও চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় নানারকম অসঙ্গতি, অব্যবস্থাপনা লেগেই রয়েছে। সর্বত্র চিকিৎসাসেবা নিয়ে মারাত্নক হাহাকার। আজ এটা আছে তো কাল সেটা নেই, আবার কাল সেটা আছে তো পরশু ওটা নেই। যেন লেজেগোবরে অবস্থা।

তিনি বলেন, সরকার কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন সিদ্ধান্তই এখানে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রামের মানুষ এক প্রকার বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে দিনাতিপাত করছে। কোথায় গেলে কাংখিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে তার কোন সদুত্তর নেই। মানুষের জীবন-মৃত্যুর এ সন্ধিক্ষণে বেসরকারি হাসপাতালগুলো প্রতিদিনই তাদের নিত্যনতুন গল্প জনগণের সামনে উপস্থাপন করছে। তারা প্রতিদিন করোনা চিকিৎসায় তাদের নানারকম প্রস্তুতির কথা শুনিয়েই সময় পার করছে অথচ চিকিৎসাসেবার জন্য তাদের দুয়ারে গেলে তাদের সে দুয়ার আর খোলে না। প্রতিদিনই জনগণের অমূল্য প্রাণ বিনা চিকিৎসায় নিভে যাচ্ছে।

সুজন বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন যে কোন সময় ৪০০ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা। এখন শুধু প্রয়োজন হাসপাতালটিকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা প্রদান করার। আমরাও চাই হাসপাতালটি চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করুক। অথচ কেন জানিনা এ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতালের ঘোষণা না দিয়ে অযথা সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চায় স্বাস্থ্যসেবার চরম এ দুঃসময়ে তারা জনগনের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে কিন্তু তাদেরকেও সে সুযোগটা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।

সুজন অভিযোগ করে বলেন, যাদের অদৃশ্য আঙ্গুল হেলনীতে সরকারের শুভ উদ্যোগসমূহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে তারা সকলেই হত্যাকারী। এদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জনগণ মামলাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মো. হোসনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান মিয়া, মোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য ফোরামের সদস্য সচিব লায়ন মাহমুদুর রহমান শাওন, আজীবন সদস্য জাহিদ তানছির, এম. এ জলিল, মোঃ শাহজাহান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ ওয়াসিম, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রনি মির্জা, ইব্রাহিম বাপ্পি, সাজ্জাদ হাসান মনু, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক কালাচাদঁ ভট্টাচার্য সীমান্ত, হাসান মুরাদ, ফরহাদ সায়েম, মোহাম্মদ কাইয়ুম, শহিদুল ইসলাম শহিদ, মো.আবিদ, সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, নাজমুল আলম শুভ, শুভ চক্রবর্ত্তী, আজম আলী জুয়েল, শাহাদাত আলম সাগর, আসিফ খান, অনিক চক্রবর্তী, প্রান্ত দে (পার্থ), পিয়াল দে, মেহেরাজ খান অপি, সাদমান জাওয়াদ, রেদোয়ান খান সাফিন, আরফিন চৌধুরি রবিন, জিহান আলী খান, সাদ্দাম হোসেন ইভান প্রমুখ।