শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭

স্বজনেরা কাছে নেই, স্থানীয়দের বাধা, মুক্তিযোদ্ধার ’শবমঞ্চ’ সাজিয়ে দিলেন ইউএনও

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ১, ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : করোনায় মারা গেছেন জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবনবাজি রাখা এক মুক্তিযোদ্ধা। ভয়ঙ্কর করোনাভীতির পরিস্থিতিতে এ বীরের অন্তিমযাত্রায় কাছে নেই স্বজন-শুভার্থী কেউ। শুধু তা নয়, এই মু্ক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্থানীয় একদল পাষণ্ড। করোনায় মৃত্যু বলে সৎকারই করতে দেবে না তারা।

আর তখনই এগিয়ে এলেন ফরিদপুর সদর ইউএনও মাসুম রেজা। তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বাধাদানকারীদের হটিয়ে দেন এবং নিজেই ওই মুক্তিযোদ্ধার শবমঞ্চ সাজিয়ে শ্রদ্ধাবনত বিদায় জানান।

মানবতার সাম্প্রতিক সেনশনে মানবতার নতুন পালক যুক্ত হওয়া এই ঘটনাটি চমৎকার করে উঠে এসেছ দেশের প্রবীণ সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ফেসবুক লেখায়।

রোববার বিকেলে এই সংক্রান্ত ফেসবুকের এক লেখায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদার জানান, রোববার (৩১ মে) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ফরিদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ভানু। সৎকারের উদ্দেশ্যে তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় শহরেরই অম্বিকাপুর শ্মশান ঘাটে! লাশের সাথেই ছিলেন ফরিদপুর সদরের ইউএনও মাসুম রেজা ও পুলিশের একটি দল। সেখানে লাশ দাহ কাজে বাধা দেন ওই এলাকার লোকজন।

তাদের দাবি, এই শ্মশানে করোনায় মৃতদের লাশ দাহ করা যাবে না! ওই দাবির মুখে দৃঢ় অবস্থান নেন ইউএনও মাসুম রেজা। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তীর লাশ এখানেই দাহ করা হবে। দৃঢ় অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরাও। পিছু হটেন বাধাদানকারীরা। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ভানুর মরদেহ দাহ করার কাজ শুরু করা হয়। লোকজন বেশি না থাকায় ইউএনও মাসুম রেজা নিজেই চিতায় খড়ি সাজানোর কাজে হাত দেন। পুলিশ সদস্যরাও নেমে পড়েন দাহ কাজে! পরম মমতায় চিতা সাজানোর পর তার উপর তুলে দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তীর লাশ। ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন; দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ভানুর চিতা!

আমি এই দৃশ্যে হতবাক! যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ভানুর স্বজন বন্ধুরা শেষকৃত্যে নেই, সেখানে একজন মাসুম রেজা তার সৎকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দিচ্ছেন তার শবমঞ্চ সাজিয়ে! এমন দৃশ্যের ছবি আমাকে মুগ্ধ করে, আনন্দে কেঁদেও ফেলি! স্যালুট ফরিদপুর সদরের ইউএনও মাসুম রেজা; এই মহৎপ্রাণ মাসুম রেজার কারণেই হয়তো আমরা একদিন সম্প্রীতির বাগান খুঁজে পাবোই!