শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭

পটিয়ায় কিস্তি আদায়ে এনজিও’র তৎপরতা, ইউএনও’র হুঁশিয়ারি

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ১, ২০২০, ৬:৩০ অপরাহ্ণ


পটিয়া (চট্টগ্রাম) : করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে জুনের শেষ পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও) তাদের গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে যাতে চাপ সৃষ্টি না করে সে জন্য তাদের ডেকে এনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে এনজিওগুলো ঋণগ্রহীতাদের থেকে কিস্তি আদায় করতে পারবেন না, সরকারের এমন নির্দেশনা আগেই এসেছিল। কিন্তু অফিস-আদালত সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ায় এনজিওগুলো ঋণ আদায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পটিয়ার ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা উপজেলার বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন। এসময় ইউএনও জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জুন মাসেও কিস্তি আদায় করতে পারবে না এনজিওগুলো। কোনো এনজিও এ নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে চাইলে তা নিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা।

উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও সূর্যের হাসির ব্যবস্থাপক রুপস মুৎসুদ্দি জানিয়েছেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ)’ সম্প্রতি দেওয়া সার্কুলারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ঋণগ্রহীতা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কিস্তি দিতে না পারলেও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই গ্রাহককে খেলাপি দেখানো যাবে না অথবা ওই ঋণকে বকেয়া হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না। এই সংকটময় সময়ে ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না। তবে কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে ইচ্ছুক হলে সেক্ষেত্রে কিস্তি গ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না। নতুন ঋণ দেওয়ায় ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা জানান, করোনাভাইরাসে তৈরি হওয়া সংকটের কারণে আগামী জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে যাতে বাধ্য করা না হয় তার জন্য এনজিও প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে একমত হওয়ায় আমি এনজিও প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই। কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে চাইলে তা নিতে কোনো বাধা নেই।

বৈঠকে পটিয়ার বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সূর্যের হাসির ব্যবস্থাপক রুপস মুৎসুদ্দি, তাড়ানা ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান, পিডিএফের এজিম মুহাম্মদ আবুল হাশেম, মমতার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ফিরোজ আলী, পদক্ষেপের ব্যবস্থাপক কাঞ্চন কুমার দে, পিডিএফের ডিম খোরশেদ আলম, ব্যুরো বাংলাদেশের এসপিও আয়ুব আলী, রিকের শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সুমন মিয়া, সাজেদা ফাউন্ডেশনের এলআরও মনিরুল ইসলাম, মমতার শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মিজান, ব্র্যাকের শাখা ব্যবস্থাপক অলক সরকার, সেবার ব্যবস্থাপক শাহ আলম সেলিম প্রমুখ।