২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন হাজী ইকবাল!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৫, ২০১৮, ১২:২০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে যুবলীগকর্মী মহিউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল গ্রেফতার এড়াতে যে কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দশদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার দেশত্যাগ ঠেকাতে কোনো অফিসিয়াল পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।

গত সোমবার মঙ্গলবার (০৩ এপ্রিল) গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেতে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর বাসায় অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

পুলিশের বরাতে জানা যায়, হাজী ইকবালসহ হত্যাকারীদের কয়েকজন ঢাকায় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযান শুরুর পর ওই নেত্রী হাজী ইকবালকে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এসময় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামী হাজী ইকবালের ছেলে আলী আকবরসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাজী ইকবাল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার নামে আত্মগোপন করেন। পরে হাসপাতালে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেতে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর বাসায় আশ্রয় নেন। রাতে সেখানেও পুলিশ হানা দিলে, যুব মহিলা লীগের ওই নেত্রীর সহায়তায় দেওয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন হাজী ইকবাল। এখন চেষ্টা করছেন দেশত্যাগের।

ধারণা করা হচ্ছে ২৬ মার্চ দুপুরে হত্যাকাণ্ডের সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হয়ে হাজী ইকবাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের সীমান্ততো অনেক বড়, যে কোনো দিকে অবৈধভাবে চলে যেতে পারে। তবে শাহ আমানত-শাহজালাল বিমানবন্দর ও স্থল বন্দর গুলোতে মৌখিক ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে।’

তবে অফিসিয়াল কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে পারেননি তিনি।

গত ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের পুনর্মিলনী নিয়ে একটি সভা চলছিল। সেখানে হাজী ইকবালের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন উপস্থিত হয়ে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে খুন করে। রাজনৈতিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে।

এই ঘটনায় বন্দর থানায় হাজী ইকবালকে প্রধান আসামি এবং তার ভাই-সন্তান-জামাতাসহ আরও ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন নিহত মহিউদ্দিনের বাবা। পুলিশ এর আগে এজাহারভুক্ত আরও তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

একুশে/এএ