১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৩ ফাল্গুন ১৪২৫, শুক্রবার

ঘুষি-কাণ্ডে ক্ষমা চাইলেন রনি

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৮, ১:৫৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষকে মারধরের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে গত ৩১ মার্চ অধ্যক্ষ জাহেদ খানকে ঘুষি মারেন রনি। এরপর জাহেদ খান নগরীর চকবাজার থানায় রনির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা করেন।

নূরুল আজিম রনি জানিয়েছেন, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি বিজ্ঞান কলেজের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন।

তিনি জানান, ৩১ মার্চ নেতাকর্মীদের নিয়ে যখন বিজ্ঞান কলেজে যান, তখন সেখানে অনেক সন্ত্রাসী ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা রনিদের লক্ষ করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে তারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত না হয়ে দাবি আদায়ের জন্য অধ্যক্ষের কাছে যান। এসময় অধ্যক্ষ পালানোর চেষ্টা করলে তারা তাকে ঘিরে রাখেন।

নূরুল আজিম রনি গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়ার জন্য আমরা অধ্যক্ষকে ভদ্র ভাষায় অনুরোধ করি।  এসময় জাহদ খান আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে, আমার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ হন।  মূলত এরপর উত্তেজনার একপর্যায়ে জাহেদ খানকে সবাই মিলে তার চেম্বারে প্রবেশে বাধ্য করি এবং তার শরীরে আঘাত করা হয়, যার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।’

ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রনি বলেন, ‘উত্তেজনাকর একটি পরিস্থিতিতে নিজের রাগ সংবরণ করতে না পারায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার ছিল। জাহেদ খান সাহেব শিক্ষকতা পেশায় আছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে এই আচরণের জন্য আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।’

তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ উঠার পর আমার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলাও হয়েছে। এই অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করেছি। কোনোদিন কোনো প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তুলতে পারেনি।’

শেষে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগের লাখ লাখ নেতাকর্মীর কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। সর্বোপরি এই চট্টগ্রামের আপামর শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং চট্টগ্রামবাসীকে আমি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।’

একুশে/এএ/এডি/এটি