২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ৮, ২০১৮, ৬:৫১ অপরাহ্ণ

ঢাকা: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ মোট পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

রোববার (৮ এপ্রিল) দুপুর ৩ টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ থেকে মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউমার্কেট এবং দোয়েল চত্বরে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে দুপুর ২ টায় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে পূর্বঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে পদযাত্রা করে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে যান তারা। পরে সেখানেই অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা চারপাশের রাস্তার মোড় আটকে দেন ও রাস্তার উপরে বসে পড়েন। এ সময় কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

আন্দোলনকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা-১০ শতাংশের বেশি কোটা নয়, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৈষম্য থাকবে না, জেগেছে তরুণ জেগেছে দেশ কোটা মুক্ত বাংলাদেশ, কোটা প্রথা নিপাত যাক মেধাবীরা মুক্তি পাক ইত্যাদি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, অবিলম্বে সরকারি চাকরিসহ সব ধরনের চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার করতে হবে। কোটা প্রথার সংস্কার ছাড়া আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়বে না। আমাদের আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ কোটার বিরুদ্ধে নয় কিংবা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে নয়। আমরা কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাই।

তিনি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা মেধায় পূরণ করা হবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোটা বিষয়ক যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে তাতে কোটা দিয়ে কোটা পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ডিএমপি রমনা জোনের উপকমিশনার আজিমুল হক জানান, মিছিল করেই আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শত শত শিক্ষার্থী পদযাত্রা নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেছে। তারা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও জেলা পর্যায়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্যপদে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।

একুশে/এএ