২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

ভিসির বাড়িতে মুখোশ পরে মহিলারা আগে ঢুকেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১০, ২০১৮, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : গত রোববার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে হামলার জন্য মুখোশধারী নারীরা আগে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ভিসির বাড়িতে মুখোশধারী হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হবে। সেইসঙ্গে ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ভিসির বাড়িতে মুখোশধারীদের হামলা কেন? এমন প্রশ্ন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানতে বড়ই ইচ্ছে করছে এরা কারা? ভিসির বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণভয়ে ভিসি পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন বাঁচাতে বাগানে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা এখনো প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষককে পেলে পায়ে ধরে সালাম করি। আর সেখানে একজন ভাইস চ্যান্সেলর এভাবে আক্রান্ত হবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।’

‘রাত পৌনে ২টায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নেতা ফোন করে জানান, ভিসি আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে বাঁচাতে হলে এখনই ফোর্স পাঠান। আমি সঙ্গে সঙ্গে আইজি এবং র‍্যাবের ডিজিকে ফোন করি। এবং দ্রুত ফোর্স পাঠিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করার নির্দেশ দেই। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করেন।’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আরো বলেন, ‘এখানে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তা কল্পনাতীত। হামলাকারীরা বাড়ি-গাড়ি সবই ভেঙেছে। সিসিটিভি ভেঙে মনিটর নিয়ে গেছে। ডকুমেন্ট হিসেবে টিভি চ্যানেল থেকে এবং অন্যান্য সোর্স থেকে আমরা প্রচুর ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কোনো সভ্য সমাজ এটা সহ্য করবে না। আমরা ফুটেজে যা দেখেছি, মুখোশ পরে মহিলারা আগে ঢুকেছে। মুখোশ পরা পুরুষরা ঢুকেছেন পরে। শুনেছি তারা নীলক্ষেত দিয়ে এসেছে। আন্দোলনকারী ছাত্ররা মুখোশ পরবে কেন?’

রোববারের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে রাত ৮টার দিকে পানি ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তারা অভিযানে যায়। এখনো মামলা হয়নি, তবে মামলা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিরীহদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এরইমধ্যে তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে একজন নিহতের খবর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়। তবে যে ছেলেটি মারা গেছে বলে গুজব ছড়ানো হয় সেই পরে ফেসবুকে নিজের পরিচয় দিয়ে জানায় যে সে মারা যায়নি। এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।’

এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, ‘এই স্ট্যাটাসটি প্রথম দেন ইমরান এইচ সরকার। আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন?’

জবাবে মন্ত্রী নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘সে একা নয়। তার সঙ্গে আরো আছে। যারাই এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে।’

দাবি-দাওয়া নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন হতে পারে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের নামে এই ধরনের অরাজকতা তো কখনো হয়নি। এটি কোন ধরনের আন্দোলন? ছাত্রদের আন্দোলনের ভেতরে বিভিন্ন দলের কর্মীরা থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো খতিয়ে দেখছে।’

একুশে/ এএ