২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫, রবিবার

ট্রাফিক ইনচার্জ প্রসিকিউশনের চেয়ারে মাস্তান মামা, অবাঞ্ছিত ঘোষণা

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ৭, ২০১৮, ৮:০২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : সিএমপির উত্তর ট্রাফিক, ইনচার্জ প্রসিকিউশনের কার্যালয়। সদরঘাটে অবস্থিত এ কার্যালয়ের ইনচার্জ প্রসিকিউশনের চেয়ারটিতে প্রায়শ এভাবে বসে থাকেন দাঁড়ি-টুপি, আলখেল্লা পরা একজন মানুষ। তাঁকে ঘিরে এখানে প্রায়ই আড্ডা হয়, হয় খোশগল্প। চেয়ারে বসে অফিসের সবাইকে তিনি নির্দেশ দেন। ফাইলপত্র ঘাঁটেন, ট্রাফিক সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন।

ভাবখানা এমন, তিনিই যেন সার্জেন্ট প্রসিকিউশন! এটা তাঁর চেয়ার, তাঁর কর্মস্থল। বাস্তবে তিনি সেধরনের কেউ নন। তিনি এয়াকুব আলী ওরফে মাস্তান মামা। আজমির শরীফের খাস খাদেমের সঙ্গে সুসম্পর্কের দাবি তুলে পুলিশ প্রশাসনে আজমির শরীফ অনুরাগীদের মাঝে দাপিয়ে বেড়ানোয় তাঁর কাজ। প্রকৃতপক্ষে এ চেয়ারের বর্তমান মালিক আনোয়ারুল হক। এক বছরেরও বেশি সময় আগে ইনচার্জ প্রসিকিউশন (সার্জেন্ট) হিসেবে সিএমপির উত্তর ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্ব নেন তিনি।

সূত্র মতে, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারকে ধরে মাস্তান মামাই আনোয়ারুল হককে এখানে পোস্টিং পেতে সহযোগিতা করেন। আর তখন থেকেই এ চেয়ারকে নিজের চেয়ার মনে করেন মাস্তান মামা। সার্জেন্ট প্রসিকিউশন আনোয়ারুল হক মাস্তান মামাকে যখন-তখন চেয়ার ছেড়ে দেন। মাস্তান মামার ফুটফরমায়েশ খাটেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারি কিংবা পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল চেয়ারে সাধারণ জনগণের কেউ এভাবে বসতে পারেন কিনা? জানতে চাইলে সিএমপির উত্তর ট্রাফিকের ইনচার্জ প্রসিকিউশন আনোয়ারুল হক প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, ‘মাস্তান মামা নিয়মিত আমার চেয়ারে বসেন না, একদিন আবদার করে বসে গেছেন।’

আবদার করে কেউ বসে গেলে আপনি তা অ্যালাউ করতে পারেন কিনা কিংবা আপনি এ দায়িত্ব এড়াতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে সার্জেন্ট আনোয়ারুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, হ্যাঁ ভাই। আসলেই দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। কাজেই আপনার সঙ্গে আর্গুমেন্টে যাব না।’

এ ব্যাপারে মাস্তান মামার কাছে জানতে চাইলে শুরুতে তিনি বলেন, কোন আনোয়ার, কোন সার্জেন্ট- এধরনের কাউকে আমি চিনি না। পরক্ষণে বলেন, আমাকে যে তার সরকারি চেয়ারে বসায় আগে তাকে জিজ্ঞেস করুন, তাকে ধরতে হবে তো। আমার কী করার আছে। আমি তো পাগল মানুষ, খাজা বাবার।’ পরক্ষণে আবার বলেন, ‘আমার চেহারার অনেক লোকও তো থাকতে পারে!’

পরিস্কার একটা ছবি, সেই ছবিতে আপনাকে দেখতে পাচ্ছি, আপনি ছাড়া অন্য কেউ হওয়ার প্রশ্নই আসে না-প্রতিবেদকের এ বক্তব্যের পর মাস্তান মামার উত্তর- ছবি থাকলে পেপারে দিয়ে দেন, আগে দিয়েছে পেপারে, দিয়ে দেন।

এরপর মাস্তান মামা জানতে চান, ‘একুশে পত্রিকা কোনটা, একুশে অনলাইন? এরা তো আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু লিখেছে। খাজা বাবার খানকা শরীফ করছিলাম, ওরা বহু কিছু লিখেছিল। কেন লিখেছে জানি না। এটা তো আমার ব্যবসাও না, কিছু না।

এরপর প্রতিবেদকের পরিবারের একজনের রেফারেন্স দিয়ে মাস্তান মামা বলেন, ‘তোয়ারা আপন মানুষ অইয়্যিরে যদি গাথি দঅ, আরা হনডে যাইয়্যুম হঅ।’ এরপর মাস্তান মামা নিজেকে অলি-আল্লাহ-ভক্ত মানুষ দাবি করে তাঁর প্রতি খেয়াল রাখতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেদক চাইলে প্রয়োজনে সামনাসামনি কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করেন।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিসি ট্রাফিক (নর্থ) হারুন অর রশিদ হাজারি সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা জানতে চান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু অফিসটা মূলত তার (ডিসি ট্রাফিক-নর্থ)। তার সঙ্গেই কথা বলুন। তিনিই ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

আপনার কাছে যেহেতু ছবি আছে, এটা কাল্পনিক কিছু না। বিষয়টা আমাকে জানিয়েছেন, আমার নলেজে থাকলো। আমার উপরস্থ কর্মকর্তা আছেন। প্রয়োজন হলে তাদের নলেজে দেবো, করণীয় ঠিক করবো। বলেন অতিরিক্তি কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান।

উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন অর রশিদ হাজারি বলেন, ‘ এ ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি না। আমাদের আগের আইজি শহীদুল হক এবং আগের কমিশনার ইকবাল বাহার ওনারা প্রত্যেকে মাস্তান মামাকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতেন। তারা গুরুত্ব দিতেন বলে আন্ডার কমান্ডরাও গুরুত্ব দেয়। আগামীকাল থেকে মাস্তান মামা আমাদের অফিসে আসতে পারবে না।’

এরপর আগ বাড়িয়ে ডিসি ট্রাফিক হারুন অর রশিদ হাজারি বলেন, ‘পারলে আপনি একটা নিউজ করে দেন। লিখে দেন মাস্তান মামাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। মাস্তান মামা জেনে যাক। লিখবেন- মাস্তান মামাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে কাল থেকে অফিসে দেখলে আমি অপদস্ত করবো।’

## পুলিশের ‘ঘনিষ্ঠ’ কে এই মাস্তান মামা?
## শতাধিক পুলিশের উপস্থিতিতে মাস্তান মামার ‘খানকা’ উদ্বোধন, পুলিশ-প্রধানের শুভেচ্ছা !
## নীরবে ‘মাস্তান মামা’র খানকা ঘুরে গেলেন নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভী

একুশে/এটি