২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, শুক্রবার

হাসপাতালের বেডে রূপালির মাতম, ‘প্রিয়ামনি’ কবরে!

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮, ৯:২৫ অপরাহ্ণ

সুমন চৌধুরী : সীতাকুণ্ডের কদম রসুল এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকেন রূপালি বেগম (২৮)। স্বামীর নাম ফারুক। রূপালী ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ থানার নিকলি গ্রামের মৃত দোয়াজ মিয়ার কন্যা। তাদের সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট শিশুকন্যা প্রিয়ামনি।

শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে ময়মনসিংহ বাসের টিকিট কাটার জন্য ছোট্ট প্রিয়ামনিকে কোলে নিয়ে রাস্তা পারাপরের সময় ঢাকামুখী মালবাহি একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে রূপালি বেগম অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন। আর আদরের প্রিয়ামনির ঠাঁই হয় ট্রাকের চাকার নিচে।

এসময় পথচারিরা রূপালি বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অনেকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। সম্বিত ফিরে পেয়েই খুঁজতে থাকে প্রিয়ামনিকে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বারবারই তাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রিয়ামনি বাড়িতে আছে, ভালো আছে। কিন্তু এসব কিছুই মানতে চান না রূপালী বেগম। প্রিয়ামনির দেখা পেতে হাসপাতালের বেডে রীতমতো মাতম শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে রূপালী বেগমের প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম একুশে পত্রিকাকে জানান এসব তথ্য।

তিনি বলেন, ট্রাকের চাপায় প্রিয়ামনির মাথার মগজ বেরিয়ে গেছে। নাড়িভুড়ি, কলিজা বেরিয়ে গেছে মুখ দিয়ে। কদম রসুল বাজার এলাকায় অনেকে এই দুর্ঘটনা দেখে জ্ঞান হারিয়েছে। ডাক্তার নিষেধ করেছে তাই আমরা এখবর রূপালী বেগমকে শুনাইনি। প্রিয়ামনিকে এলাকাবাসী দাফনের ব্যবস্থা করছে।

ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. বেলাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, সকাল সাড়ে নয়টার সময় রূপালী বেগমকে (২৮) অজ্ঞান অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে পাঠান।

প্রিয়ামনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে যে ট্রাক; সেটি জব্দ করা হলেও ঘাতক চালক ও সহকারিকে আটক করতে পারেনি সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ।

একুশে/এসএইচ/এটি