২৪ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫, শনিবার

রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি আছে শুধু ভালোবাসা : প্রধানমন্ত্রী

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮, ৭:০৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নাই। আপনাদের সেবা করাই আমার কাজ। দেশের উন্নয়নে আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন, যেন দারিদ্র্যসীমা ৫-৬ ভাগ কমাতে পারি।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তারা ৫শ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। এই বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্যাতন করে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কোনো নির্যাতন করে না, দেশের উন্নয়ন করে, মানুষের কল্যাণ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। বাবা-মা-ভাই—সবাইকে হারিয়েছি। মানুষ তার আপনজনকে হত্যার বিচার চাইতে পারে, আমাদের সেই বিচার চাওয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিল জিয়াউর রহমান।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ২০০১ সালে ষড়যন্ত্র করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না। সেসময় ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে। এই ময়মনসিংহে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর মতো অত্যাচার করেছিল। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশের দারিদ্র্য যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, তা এই ১০ বছরে ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই।

তারুণ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের যুবসমাজ-তরুণ সমাজই আমাদের শক্তি। আমরা শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করছি। প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৪ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উচ্চবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। যাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে। এর মধ্যে প্রাইমারি শিক্ষার ১ কোটি ৪০ লাখ মা, ওই প্রাইমারি শিশুদের উপবৃত্তি মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি আমরা পৌঁছে দিচ্ছি মায়ের হাসি প্রকল্পের মাধ্যমে।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রযুক্তিখাতে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল। প্রতি উপজেলায় ব্রডব্যান্ড এবং ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেছি। আজকে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উপৎক্ষেপণ করে মহাকাশ জয় করেছি। আমরা যে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি, আপনারা সেখানে বসে নিজেরা অর্থ উপার্জন করতে পারেন। নিজের দেশে বসে বিদেশে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিয়েছি। আজ সবার হাতে হাতে মোবাইল। এটি বিএনপির সময় ছিলো না। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।

দৃঢ়তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলতে থাকেন, আমরা কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনা পয়সায় মা-বোনদের হাতে তুলে ধরছি। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

সমাজের সব গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মানী ভাতা দিচ্ছি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। সমাজে কেউ বাদ থাকবে না সবার উন্নয়ন হবে এই চিন্তা থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করি। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। এটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলে।

বক্তব্যের শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি দেবার কিছু নাই আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকার সভাপতিত্বে এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত প্রমুখ।

একুশে/এসসি