১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫, শুক্রবার

বন্ধুর নিথর দেহে বন্ধুদের চোখের জল

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৬, ২০১৮, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

ছবি-আকমাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের লাশঘরে নিথর দেহে পড়ে আছে মাহমুদুল হাসান। প্রিয় বন্ধুকে এক নজর দেখতে ভিড় করেছে বন্ধু ও সহপাঠীরা। তাদের আহাজারি ও শোকে ভারী হয়ে উঠেছিল চারপাশ। বন্ধুর রক্তমাখা নিথর দেহ দেখে গড়িয়ে পড়ছিল তাদের শোকের জল।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকক্লাবের সামনে রিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান পরিবেশ ও বনবিদ্যা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে সেখান থেকে চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

জয়পুরহাট জেলায় আবদুল মালকের সন্তান তিনি। ছিলেন তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছয় মাস আগেই মাকে হারান। পরিবারের একমাত্র আশার আলো মাহমুদুল।

ছবি-আকমাল হোসেন

বিকেলে লাশঘরে প্রিয় বন্ধুর রক্তমাখা নিথর দেহ একনজর দেখে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সায়মা নামে এক শিক্ষার্থী। শত চেষ্টায়ও সহপাঠীরা তাকে সেখান থেকে সরাতে পারেনি। এসময় একুশে পত্রিকার সাথে কথা হয় মাহমুদুলের বন্ধু সৈয়দা ফারিহা তাবাচ্ছুমের সাথে। তিনি বলেন, মাহমুদুল খুব চঞ্চল ও মিশুক ছিল। সকলের প্রিয়ভাজন ছিল। ক্লাসপ্রতিনিধি হওয়ায় সকলের সাথেই ছিল তার যোগাযোগ। আজও একসাথে ক্লাস করেছিলাম। অসুস্থতা বোধ করায় দুপুরে সে ক্লাস থেকে চলে আসে। এরপরই তার মৃত্যুর খবর শুনলাম।

মাহমুদুল হাসানের বন্ধু ইফতেখার চৌধুরী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ক্লাসের সবার প্রিয়মুখ ছিল হাসান। শুরুর দিন থেকেই আমাদের বন্ধুত্বের পথচলা। এতো মিশুক ও প্রিয় বন্ধুকে অকালে হারিয়ে ফেলবো আমরা কল্পনাও করিনি।

এদিকে বিকেল থেকেই প্রিয় বন্ধুর ময়নাতদন্তে আপত্তি জানায় বিভাগের সহপাঠীরা। পরে পরিবারের সম্মতিতে ও শিক্ষকদের পরামর্শে তারাও সম্মতি জানায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে মর্গে লাশ নিতে দেরি হওয়ায় ময়নাতদন্ত আগামীকাল সকালে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিকেলে উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মর্গে নিহত শিক্ষার্থীকে দেখতে আসেন। এসময় বিভাগের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

একুশে/আরএইচ/এটি