২২ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

গ্যাস সংকট সারাদেশে

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ৯, ২০১৮, ২:১৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা: সমুদ্রের তলদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাইপলাইন ত্রুটিমুক্ত করা যাচ্ছে না। আট বছর আগে গৃহীত প্রকল্পটির পাইপলাইনের ত্রুটি কয়েক দফায় সারানোর পর বাণিজ্যিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয় গত ১৮ আগস্ট। কিন্তু চালুর তিন মাস না পেরোতেই ফের ত্রুটি দেখা দিয়েছে পাইপলাইনে। বিঘ্ন হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ।

গ্যাস সংকট কাটাতে সরকার যে এলএনজি বিদেশ থেকে আনছে এর পাইপলাইন নিজেই এখন একটি সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এর ত্রুটি সারানোর জরুরি ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শীত শুরুর আগেই তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে সারাদেশ।

এর ফলে একদিকে শিল্প-উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে আবাসিক গ্রাহকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সামর্থ্যবানরা এলপিজি (সিলিন্ডার গ্যাস) গ্যাস কিনে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন।

পেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরের তলদেশে এলএনজি পাইপলাইনে ঐ ত্রুটি দেখা দেয়। এতে জাতীয় গ্রিডে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ভাসমান টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলের হাইড্রোলিক ভাল্বটি অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে পাইপলাইনে গ্যাস আসছে না।

অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক ভাল্বটি ৪০ মিটার পানির তলদেশের পাইপলাইনে স্থাপিত। কিন্তু এটি মেরামত করার জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেই। হঠাত্ কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা সারানোর জন্যও কোনো বিশেষজ্ঞ এবং কর্মীদল নেই। সব মিলিয়ে ত্রুটি সারাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার পরিচালক (উত্পাদন ও বিপণন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ত্রুটি সারাতে কিছু কারিগরি সরঞ্জাম দরকার। সেটি এ মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। তবে একটি দক্ষ টিম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে রওনা দিয়েছে গত বুধবার। আজ শুক্রবার তাদের কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছার কথা। এরপর ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করবে। এখন পর্যন্ত যতটুকু ত্রুটি সম্পর্কে জানা গেছে তা মেরামতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ যাচাইয়ের পর বোঝা যাবে কতদিন সময় দরকার হবে।

প্রসঙ্গত বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গ্যাস উত্পাদন করা হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ৩০ কোটি ঘনফুট সমপরিমাণ এলএনজি যুক্ত হওয়ার পর সরবরাহ ৩০০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।