২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৮ মাঘ ১৪২৫, সোমবার

প্রত্যেক ঘরকে আওয়ামী লীগের দূর্গে পরিণত করুন : তোফায়েল

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৮, ৬:২৮ অপরাহ্ণ

ভোলা: প্রত্যেক ঘরকে আওয়ামী লীগের দূর্গে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেছেন, বিএনপি যত কথাই বলুক নির্বাচনে আসা ছাড়া তাদের বিকল্প কিছু নেই। যত শর্ত দিক, তাতে কিছু যায় আসে না। তাদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিও ছিলাম। তারা চায়, একটা উপদেষ্টা মণ্ডলির সরকার, যেটা সংবিধানে নাই। তারা চায়, সংসদ বিলুপ্ত হোক, যেটা সংবিধানে নাই। বিএনপির কোনো দাবিই সংবিধানে নেই।

আজ শনিবার ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ কতৃক আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন। এ সময় সদর উপজেলার ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের প্রায় ১৪ হাজার তৃণমূল কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ২০০১-এ ভোলার বিএনপির অত্যাচার কোনো নেতাকর্মী বাড়িতে থকেতে পারেনি। পাঁচ বছরই অনেক নেতাকে ঢাকায় থাকতে হয়েছে। মায়ের জানাজায়, বাবার জানাজায় অংশগ্রহন করতে পারেনি। আবার যদি বিএনপি সেই সুযোগ পায় তাহলে কি কঠিন অবস্থা হবে তা ভাবাই যায় না। সুতরাং প্রত্যেকটা ঘরকে আওয়ামী লীগের দূর্গে পরিণত করেন। ভোলাতে ২০০৮ সালে একজন বিরোধী দলের এমপি হয়েছে, সে কোনো উন্নয়ন করেনি। নির্বাচিত হওয়ার পর ভোলাতেই আসেনি। তারা আবার আসবে অতিথির মতো হয়ে। তারা নাকি ভোট করবে টাকা দিয়ে, উন্নয়ন করে না! ভোলার মানুষ কি টাকায় বিক্রি হয়?

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আজ জাতীর পিতাকে আমি স্মরণ করি, যিনি আমাকে তোফায়েল আহমেদ বানিয়েছেন। তারই সাথে সাথে ১৫ই আগস্ট যারা শহীদ হয়েছেন ও জাতীয় চারনেতা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু এমনটাই চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়েছে তখন তার দুই কন্যা ভাগ্যক্রমে বিদেশে ছিলেন। তা না হলে তারা দু কন্যাকেও হত্যা করতো। সেই দিন নিষ্পাপ রাসেলকে তারা হত্যা করেছে। করণ যাতে বঙ্গবন্ধুর কোনো উত্তরাধিকার না থাকে। কেউ যেনো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারে ভবিষ্যতে।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছি। দেশে নেমেই তিনি কেঁদেছেন এবং বলেছেন, আমি এখানে অনেকেই দেখি কিন্তু আমি ছোটো ভাই রাসেলকে দেখি না। যে আমাকে হাসু আপা বলে ডাকতো।

২১ বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সব শেষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তার বিচার হয়েছে কিছু দিন আগে। যেখানে অনেকের ফাঁসি হয়েছে, তারেক জিয়াসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন জেল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগস্টের হত্যা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে তিনি কলংক মুক্ত করেছন। তার কারণেই দশ বছরে আজ বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে তিনি প্রতিষ্ঠত করেছেন।

দেশ আজ অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় দশ বিলিয়ন টন চা উৎপাদন হতো তার মধ্যে আট মিলিয়ন রপ্তানি করতাম। এখন ৮৫ মিলিয়ন টন চা উৎপাদন হয় কিন্তু এক মিলিয়ন ও রপ্তানি করতে পারি না, কারণ বাংলার মানুষ তা ভোগ করে। ৯৬ সালে সিমেন্টের উৎপাদন ছিল ৯ লক্ষ টন, এখন ৩ কোটি টন উৎপাদন হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলা উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, দশ বছরে ভোলাতে ৫২ হাজার পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়েছে। এলজিইডিতে ৫শত ১৮ কোটি টাকার, গণপূর্তে ৬০৭ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদ ৫২ কোটি টাকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাজ হয়েছে ১৬শত ১২ কোটি টাকার। আরো ১৩শত কোটি টাকার কাজ প্রকৃয়াধীন। শিক্ষা প্রকৌশলী একশত ১৩ কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়নে ৫০ কোটি, সমাজ সেবায় ১৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে ও গ্যাস সংযোগ ১২শতটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক কাজ হয়েছে ভোলায় যা সবই দৃশ্যমান। পরে নির্বাচন পরিচালনা জন্য ২১ সদস্য একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোমিন টুলু, সহসভাপতি আবদুল দোস্থ মাহমুদ, পৌড়মেয়র মনিরুজ্জামান মনির, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হক আরজু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনূছ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লবসহ প্রমুখ।

এ ছাড়াও সদর উপজেলা চেয়ারম্যানদের পক্ষে ইয়ানূর রহমান বিপ্লব মোল্লা, কেন্দ্র কমিটির সভাপতিদের পক্ষে ধনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন আর রশিদ হাওলাদার, কেন্দ্র সচিবদের পক্ষে মাহবুবুল আলম শানু বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।