২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, শুক্রবার

আ.লীগের মনোনয়ন পেতে চান চট্টগ্রামের ২৭ তরুণ রাজনীতিবিদ

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ১২, ২০১৮, ১:৩২ অপরাহ্ণ

রাকীব হামিদ : প্রবীণরা অভিজ্ঞ আর নবীনরা স্বপ্নচারী তারুণ্যদীপ্ত। তবে সামর্থ্যের জোয়ারে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জে ছুঁড়ে দিচ্ছেন একে অপরকে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী রাজনীতিতে নবীন-প্রবীণের লড়াই যেনো আরো বেড়েছে। যা দলীয় মনোনয়নেই প্রত্যক্ষ। প্রবীণদের সাথে দলীয় মনোনয়ন পেতে পিছিয়ে নেই নবীনরা।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়নে নবীন ও তরুণদের অংশগ্রহণ কতটুকু ইতিবাচক-এমন প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, তরুণ ও নবীনরা সব সময় সৃষ্টিশীলতায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তারাই হচ্ছে ভবিষ্যৎ। তাদের রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়া ও মনোনয়ন চাওয়া সেটা অবশ্যই ইতিবাচক। এখানে একটি বিষয় আমাদের জন্য এলার্মিং তবে তার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ওরা যদি দেশের জন্যে মানুষের জন্যে কিছু করা মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে এসে মনোনয়ন চায় তাহলে সেটার প্রশংসা করতেই হবে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনেই দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহে নবীন ও তারুণ্যের জোয়ারে ভাসছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি। রোববার তৃতীয় দিনে এসে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট দেড়শ’র অধিক ফরম বিক্রি হয়েছে।

দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মিরসরাই। অর্থনীতির পাশাপাশি ভোটের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১ আসনের উপজেলাটি।

স্বাধীনতার পর পাঁচ বার এই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন দলের প্রবীণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এর মধ্যে দুবার মন্ত্রীত্বের স্বাদও নিয়েছেন। তবে এবার নির্বাচনী দৌড়ে এই আসনে পিছিয়ে নেই নবীনরা।

ইতোমধ্যে এই আসন থেকেই দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন বর্তমান সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মেঝ ছেলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল। সিনেপ্লেক্স ব্যবসা খাতে সফল এই ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদেও আছেন।

এছাড়া এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য। যদিও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার নেই কোনো যোগাযোগ।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় উপজেলা ফটিকছড়ি। আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে রয়েছেন তরুণ দুই রাজনীতিবিদ।

২০১৪ সালে দল থেকে প্রথম মনোনয়ন পাওয়া খাদিজাতুল আনোয়ার সানি এবারও দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিনি ফটিকছড়ি থেকে দুবার নির্বাচিত সাংসদ প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের কন্যা। বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজী মো. তানজিবুল আলম। তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের একজন আইনজীবী।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলম এবারও নিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন ফরম। প্রতিষ্ঠিত অপেক্ষাকৃত তরুণ এই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের ভাতিজা। একই সঙ্গে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মনোনয়ন নিয়েছেন আসনটির সাবেক প্রয়াত সাংসদ এ বি এম আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন। তিনি উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) মহাজোটের আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে তরুণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী। তার সাথে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সম্পাদক নাছির হায়দার বাবুল।

২০০১ সাল থেকে থেকে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনটিতে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। সেই ধারাবাহিকতা একাদশ সংসদ নির্বাচনেও অব্যাহত রাখতে চায় দলটি। এই আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে ২জন তরুণ রাজনীতিবিদও আছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রথমবারের মতো এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন। পিছিয়ে নেই আরেক তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান গণি। তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ছোটভাই।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনটি মহাজোটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। তবে মহাজোটের শরীকদের ছাড় দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তাই এই আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন। এই তালিকায় দুই তরুণ রাজনীতিবিদও আছেন। তারা হলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি পুত্র মুজিবুর রহমান। স্থানীয় রাজনীতিতে একেবারেই তরুণ তিনি। তবে পেশায় ব্যবসায়ী। তার সাথে মনোনয়ন নিয়েছেন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানা।

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে দলীয় মনোনয়নে তরুণ প্রার্থীর ছড়াছড়ি। হেভিওয়েট এই আসনটিতে এই পর্যন্ত ১৮ জন আ.লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন।

তারুণ্যদিপ্ত মনোনয়নের এই বহরে আছেন- চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানের ছেলে নগর আ.লীগের সদস্য আবদুল লতিফ টিপু, বঙ্গবন্ধুর সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর ছেলে জসীম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, কোতোয়ালী থানা আ.লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১২ জন। এই তালিকায় তরুণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু ও যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ। তারা দুজনই সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। এর সাথে রয়েছে দুটি ইপিজেড, পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব নিয়েই চট্টগ্রাম-১১ বন্দর পতেঙ্গা আসন। এই আসনে নতুন করে যুক্ত হলো দেশের প্রথম কর্ণফুলী টানেল। যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই এ আসন ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। দেশের লাইফ লাইন খ্যাত এ আসনটিতে দলের মনোনয়নে পিছিয়ে নেই তরুণ রাজনীতিবিদরা।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, চট্টলশার্দুল খ্যাত প্রয়াত এম এ আজিজের ছেলে সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার মনোনয়ন কিনেছেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে। তারুণ্যদীপ্ত বাহার চট্টগ্রাম নগর আ.লীগ কার্যকরী কমিটির সদস্য। প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সাথে মনোনয়ন দৌড়ে তিনিও আছেন সমান তালে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১ জন দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন তরুণ আ.লীগ নেতা শাহজাদা মহিউদ্দিন। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আ.লীগ ক্ষমতায় আসলে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক মনোনীত হন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন দক্ষিণ চট্টগ্রামের জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নিবন্ধন বাতিল হলেও এই আসনে জামায়াতদের হটাতে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ থেকে এই আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে তরুণ তুর্কী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তার সাথে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও এই আসন থেকে ৯৬ সালে আ.লীগ মনোনীত সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী মো. মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অহিদ সিরাজ স্বপন।

 

 

একুশে/আরএইচ/এটি/এসসি