১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫, বুধবার

মনোনয়নবঞ্চিত বিএসসি’র আশা প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ‘মূল্যায়ন’ করবেন

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ৩:০৩ অপরাহ্ণ

রাকীব হামিদ : ২০০৮ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম বিএসসি। ২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ২০১৫ সালে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব পান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক র্কমসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। রাজনীতির পথে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ছাত্রজীবনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৬৭-৬৯ পর্যন্ত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগে। একাত্তরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা নুরুল ইসলাম বিএসসি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যুক্ত হন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আসছে নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি প্রবীণ রাজনীতিক নুরুল ইসলাম বিএসসি। তবে মনোনয়নবঞ্চিত হলেও তিনি বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে মূল্যায়ন করতে পারেন।

সম্প্রতি একুশে পত্রিকাকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মনোবাসনার কথা ব্যক্ত করেন।

নুরুল ইসলাম বি.এসসি বলেন, ‘আমাকে কিছু দিবে এটার জন্য দল করি না। দেশের স্বার্থে দল করি। মন্ত্রী হবার জন্য দল করি না। আমাকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীত্বের বিষয়ে আশ্বস্থ করেননি। তবে আমি বিশ্বাস করি তিনি আমাকে মূল্যায়ন করতে পারেন।’

চট্টগ্রাম-৯ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন না দিলে আমি কী করবো। দল যাকে উপযুক্ত মনে করেছে এবং যাকে দিয়ে দেশ ও দশের কাজ হবে মনে করেছে তাকে দিয়েছে। আমরা দল করি, শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতি করি-তিনি যেটা করবেন সেটাই আমরা মেনে নিব।’

‘অবমূল্যায়িত’ হয়েছেন কিনা-এমন প্রশ্নে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন না দেয়া-এটা অবমূল্যায়নের প্রশ্ন নয়। আমি এমপি না হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রী করেছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মনোনয়ন না পেলেও আমি মনে করি, অন্য কাউকে বা নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেয়া উচিত। আমরা তো করছি, আমাদের তো কোনো ছন্দপতন নাই। যাদের নতুন ছন্দে যোগ দেয়ার কথা তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।’

এদিকে ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রীত্ব ছাড়ার ৩ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম এসেই নৌকা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। গত ১৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিনভর চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী নওফেলের সাথে গণসংযোগ করেন তিনি। মনোনয়ন না পেয়েও নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে মাঠে-এটি দলের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দলকে আমার জেতাতে হবে। দল না জিতলে ও ক্ষমতায় না গেলে আমাদের অস্তিত্ব কী থাকবে? অস্তিত্বের জন্য দলকে জেতাতে হবে। দল যাকে প্রার্থী করেছে তার জন্য কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জেতাতে আমি মাঠে নেমেছি।’

ধারাবাহিকতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় দাবি করে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, গত দশ বছর আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আছে বলে অনেক উন্নয়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আগামীতেও যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া সম্ভব।

রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষানুরাগী হিসেবে দেশে-বিদেশে সমাদৃত নুরুল ইসলাম বিএসসি। নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ছিন্নমূল পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘নুরুল ইসলাম বিএসসি ভ্রাম্যমাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়’। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ ভ্রাম্যমাণ স্কুলটি দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে।

শুধু শিক্ষা খাতে নয়, কারিগরি শিক্ষা খাতে উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএসসি। তিনি বলেন, বিদেশের সাথে চাহিদার মিল রেখে দেশে কারিগরি বিদ্যালয়গুলো সাজানো উচিত। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করে বিদেশে পাঠাতে পারলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার হার দ্বিগুণ বাড়বে।

নুরুল ইসলাম বিএসসি নিজের অন্তিম ইচ্ছার কথাও জানান একুশে পত্রিকাকে। তিনি বলেন, মানুষ শতকরা ১০০ ভাগ শিক্ষিত হোক এটি আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা। পাশাপাশি আমার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যাতে যুব সমাজ তৈরি হয় এবং স্বাধীনতাবিরোধীরা যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে সে প্রচেষ্টা চালানো।

একুশে/আরএইচ/এটি