২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৮ মাঘ ১৪২৫, সোমবার

কর্মমুখী কারিগরী শিক্ষার প্রসার চাই : শিক্ষা উপমন্ত্রী

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ৩:২৮ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: শিক্ষিত বেকার যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার নগরীর ষোলশহর চশমাহিলস্থ বাসভবনে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষা উপমন্ত্রী একথা বলেন।

ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, আমরা চাই কর্মমুখী কারিগরী শিক্ষার প্রসার। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামে সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। শিক্ষিত বেকার যাতে সৃষ্টি না হয় এরজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভবনগুলো বহুতল করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। কেননা চট্টগ্রাম মহানগরীতে জমির সঙ্কট রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে এর পেছনে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হবে সে তুলনায় বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য স্কুল-কলেজসমূহের অবকাঠামো সুবিধার প্রসার ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে দুই শিফটে পাঠদান করা হলে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। উচ্চশিক্ষার মান উন্নত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এখন আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশে শিক্ষার গুণগতমানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাহলেই সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে না। ধর্মীয় শিক্ষায় ভারসাম্য আনতে হবে।

মেয়েদের ক্লাস ফোর-ফাইভের উপরে পড়ালেখা না করানোর জন্য গত শুক্রবার এক মাহফিলে হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান বলেন, এটি নিছক তার ব্যক্তিগত মন্তব্য। তিনি এদেশের শিক্ষানীতির সাথে জড়িত নন। তার বক্তব্য রাষ্ট্রীয় নীতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা তার বাকস্বাধীনতার বিষয়, যার জন্য তিনি এমন বক্তব্য রেখেছেন। তবে বৈষম্যমূলক কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়।

পাঠ্যবইয়ে লেখক পরিবর্তন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। আমরা অসাম্প্রদায়িক ও যার যার ধর্ম পালনের নীতিতে বিশ্বাসী। শিক্ষার্থীদের মনে সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা প্রবেশ কাম্য নয়। এ ধরনের পাঠ্য বিষয় যাতে না থাকে এরজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লেখা পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্তিরোধে ভবিষ্যতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজে সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল, স্বাচিপ নেতা ডা. শেখ শফিউল আজম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।