২৪ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫, শনিবার

ফের পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ২:১৬ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : ন্যূনতম বেতন বাস্তবায়ন ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গার্মেন্টসের পোশাক শ্রমিকরা ফের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করার আশ্বাস দেওয়া হলেও পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেমে নেই।

সাভার ও আশুলিয়ায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আশুলিয়ার জামগড়ার ৬ তলা এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার আশপাশের ২০টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)টহলরত আছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া মিরপুর, শেওড়াপাড়া, টোলারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা সড়কে বিক্ষোভ করছেন।

শিল্প পুলিশের পরিচালক সানা শামিনুর রহমান বলেন, মজুরি বৈষম্যের অভিযোগে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি পোশাক কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের জলকামানসহ সাজোয়া যানবাহন।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর কয়েক স্থানে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন বেতন স্কেল হওয়া সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশের বেতন তেমন বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, মালিকেরা বর্ধিত কাঠামো নিয়ে নানা ধরনের কারসাজি করছেন।

একই দাবিতে ভাষানটেকের কয়েকটি পোষাক কারাখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। এতে ভাষানটেক সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভাষানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ বলেন, শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। এতে ভাষানটেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শেওড়াপাড়ার কয়েকটি কারখানার শ্রমিরাও সড়কে নেমে আসে। তাদের অবস্থানের কারণে রোকেয়া সরণিতে গাড়ি চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে ও টোলারবাগেও সকালে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা রাস্তা অবরোধ করে ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, শ্রমিকরা সড়কে বিক্ষোভ করছে। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেলা ১২টার দিকে গাবতলীর কাছে টেকনিকালে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে সাভারমুখে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী এসে শ্রমিকদের তুলে দিলে পৌনে ১টার দিকে গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

প্রাপ্য বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসার পর নতুন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গত বৃহস্পতিবার প্রথম সভাও করেছে।

পোশাক শ্রমিকদের জন্য গত বছর ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোর সাতটি গ্রেডের মধ্যে যে তিনটি গ্রেড নিয়ে আপত্তি এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছেন কমিটির প্রধান শ্রম সচিব আফরোজা খান।

শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, কোনো শ্রমিকের বেতনই কমবে না।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি কাজি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলছেন, শ্রমিকদের গ্রেড নামিয়ে বেতন কম দেয়ার চেষ্টা চলছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সভায় ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মালিকপক্ষ ৭ হাজারের বেশি দিতে রাজী হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মালিকরা নূন্যতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণে রাজি হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন মজুরী কার্যকরের কথা থাকলেও মালিকপক্ষ সেটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।

একুশে/এসসি