২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫, রবিবার

বিএনপির নেতাদের মানসিক চিকিৎসা করানোর আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ৭:২৪ অপরাহ্ণ


ঢাকা: বিএনপির নেতাদের মানসিক চিকিৎসা করানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা ২০১৪ সালে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন,পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছেন, ইজতেমা ফেরত মুসল্লীকে পেট্রোল বোমায় ঝলসে দিয়েছেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ওপর বোমা মেরেছেন। মনে রাখবেন বোমাবাজি করে ত্রাস করা যায়, ভোট পাওয়া যায় না।

‘তাই আপনাদের বলবো নিজেদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করুন, দলে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনুন এবং বিএনপিকে ঢেলে সাজান। আমি বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ জানাব, আপনাদের কয়েকজন নেতার মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা করান। আর কাদের চিকিৎসা প্রয়োজন আপনারা সবাই জানেন।’ বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অকশনের মাধ্যমে নমিনেশন ফরম বিক্রি করে তাদের প্রার্থী নির্বাচিত করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি প্রথমে ৩০০ আসনে ৮শ’র মতো প্রার্থীর কাছে ফরম বিক্রি করে সেখান থেকে অকশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিডারকে প্রার্থী নির্বাচিত করেছিল।৩০০ আসনে ৮০০ প্রার্থী এটা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে প্রত্যাখান করেছে।কারণ যারা অকশনের মাধ্যমে নমিনেশনবিক্রি করে তারা কিভাবে জয়লাভ করবে?নির্বাচনের ১০ দিন আগে হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থেকে কি জয়লাভ করা যায়?

ড. হাছান মাহমুদ বলেন,পুনঃনির্বাচনের জন্য সংলাপের প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের নতুন ভাওতাবাজি। নির্বাচনে হেরে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য ঐক্যফ্রন্ট এ নতুন ভাওতাবাজি শুরু করেছে। কিন্তু দেশের জনগণ এতো বোকা নয়। অতীতের মতো আপনাদের এই ভাওতাবাজিও জনগণ ধরে ফেলেছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলেছে। তার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ অতিদরিদ্র থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত। এটি শেখ হাসিনার জাদুতে হয়েছে।একটি পক্ষ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখেও দেখে না, এর প্রশংসাও করতে জানে না। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে চায়।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি, শূন্যতা অনুভব করেছিলো দেশ। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরলেই এর পূর্ণতা আসে। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে উন্নয়নের দিকে নিয়ে আসেন। কিন্তু ঘাতকরা সেই উন্নয়ন সহ্য করতে পারিনি। তারা জাতির পিতাকে হত্যা করে। তার কন্যা ক্ষমতায় এসে দরিদ্র রাষ্ট্রকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে গেছেন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন,অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, অভিনেত্রী তারিন, নূতন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সহ-সভাপতি রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

সভা শেষে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী সমাজ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা সরকারের মন্ত্রীসভার নতুন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং হাছান মাহমুদ স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের অতীতের সকল আন্দলোন- সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।