২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫, শুক্রবার

সংলাপের নামে ভাওতাবাজির কথা বলছেন ড. কামাল : তথ্যমন্ত্রী

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

ঢাকা : নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ড. কামাল হোসেন সংলাপের নামে ভাওতাবাজির কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিএনপি ও তাদের সহযোগী কিছু নেতার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার কথাও বলেন তিনি।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এ ধরণের নর্বিাচন ইতিহাসে বিরল। সব নির্বাচনে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে, পুলিশ আহত কিংবা নিহত হয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনে একজন পুলিশ আহত হয়নি। সবচেয়ে কম সহিংসতা হয়েছে। আজ তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সংলাপের কথা বলছেন। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, এই ধরনের কথাবার্তা না বলে বরং আপনারা নিজেরা বিশ্লেষণ করুন আপনাদের পরাজয়। আর নেতৃত্ব পরিবর্তন করুন। তাহলে হয়তো আপনার আবার জনগণের কাছে ফিরে যেতে পারেন।

বিএনপির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, অকশনে যারা নমিনেশন বিক্রি করে, তারা কীভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করবে। বাংলাদেশের ইতিহাস আমরা দেখি নাই ৩০০ আসনে ৮০০ নমিনেশন, এটি একটি রেকর্ড। অকশনে যিনি ভাইস বিটার তিনি পেয়ে গেলেন নমিনেশন। যারা অকশনে নমিনেশন বিক্রি করে তারা কীভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করবে। নির্বাচনের ১০ দিন আগে যারা হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকে, তাদের পক্ষে কী নির্বাচনে জয় লাভ করা সম্ভব, সম্ভব না। মানুষ অত বোকা নয়। যারা জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে মানুষ মেরেছে, মানুষ তো তাদের ভোট দেবে না। নমিনেশন বাণিজ্য যারা করেছেন জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি, শূন্যতা অনুভব করেছিলো দেশ। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরলেই এর পূর্ণতা আসে। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে উন্নয়নের দিকে নিয়ে আসেন। কিন্তু ঘাতকরা সেই উন্নয়ন সহ্য করতে পারিনি। তারা জাতির পিতাকে হত্যা করে। তার কন্যা ক্ষমতায় এসে দরিদ্র রাষ্ট্রকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যখন বলে সব ক্ষেত্রে আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যখন স্বপ্নের কথা বলে দেশকে সুইডেন বানানোর, তখন পাকিস্তানে দাবি উঠে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা বলেন সুইডেন নয়, দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করুন। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার চিত্র। এই যখন পরিস্থিতি, তখন একটি পক্ষ তারা বাংলাদেশের কোনও উন্নয়নও দেখে না, তারা এই উন্নয়নের কোনও প্রশংসাও করতে পারে না। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, অভিনেত্রী তারিন, নূতন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সহ-সভাপতি রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

একুশে/এসসি