২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৮ মাঘ ১৪২৫, সোমবার

যেভাবে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিকাশের টাকা…

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯, ১২:১৫ অপরাহ্ণ


আকমাল হোসেন : ভূয়া কল থেকে পরামর্শ শুনে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের টাকা খোয়ানোর অভিযোগ আগের চেয়ে বেশী পাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

কিভাবে বিকাশের টাকা প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে- তার একটা ধারণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম।

সম্প্রতি অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম জানান, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এক নারীর বিকাশ নাম্বারে বিদেশ থেকে ২০ হাজার টাকা পাঠান তার এক আত্মীয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীকে বিকাশ কর্মকর্তা পরিচয়ে একজন ফোন দেন। এবং বলেন, ‘অ্যাকাউন্ট আপগ্রেডের’ জন্য মোবাইলে একটা ম্যাসেজ যাবে, সেটা যেন তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ওই নারীও প্রতারকের কথামত এসএমএসটি পাঠিয়ে দেন। এরপর উক্ত নারীর বিকাশের ২০ হাজার টাকা প্রতারকদের দুইটি বিকাশ নাম্বারে চলে যায়। সবকিছু মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়। টাকা খোয়ানোর পর বিকাশ গ্রাহক ওই নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তা চান।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর ২০ হাজার টাকার এক ভাগ চলে গেছে ঢাকায় এবং আরেক ভাগ চলে গেছে রাজবাড়িতে। এদের চিহ্নিত করা হয়েছে। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সাইফুল ইসলাম নামের একজন ভুক্তভোগী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ৯ জানুয়ারি দুপুরে একটা নম্বর থেকে কল করে বলেন, ভাই আমি বিকাশ এজেন্ট। আপনার বিকাশ নাম্বারে কিছু সমস্যা আছে। আমাকে কিছু তথ্য দিয়ে সাহায্য করবেন।পরে সাইফুল প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে তথ্য দিলে ওই প্রতারক বলেন, আপনার মোবাইলে একটা ম্যাসেজ যাবে সেটা আমাকে পাঠান।

এসএমএসটি পাঠানোর কিছুক্ষণ পর সাইফুলের বিকাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা দুই বারে ক্যাশ আউট হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর কথিত এজেন্টকে তিনি কল দেন, তবে কেউ ফোন ধরেনি।

শুধু এই দুটি ঘটনা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নানা কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আরো পেয়েছে পুলিশ। এ ধরনের প্রতারক চক্রের বেশকিছু সদস্যকে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় এনেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

কিভাবে এ প্রতারণা হচ্ছে সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, প্রতারকরা বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে টার্গেট বিকাশ নাম্বারকে নিজের দাবি করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আবেদন করে। তখন বিকাশ কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে যাচাইয়ের জন্য তাদের অ্যাপ ভেরিফিকেশন নাম্বার, ইউআইডি নাম্বার, পিন ও পাসওয়ার্য ইত্যাদি পাঠায়। ভূয়া পরামর্শ দিয়ে প্রতারকরা ওই অ্যাপ ভেরিফিকেশন নাম্বার, ইউআইডি, পিন ও পাসওয়ার্ড নিয়ে ফেলে প্রকৃত গ্রাহকের কাছ থেকে। এরপর এসব ব্যবহার করে কোন কোন সময় টার্গেট বিকাশ নাম্বারটি ক্লোন করে সেখানে বিকাশ অ্যাপ যুক্ত করে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।

জনসাধারণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, এসএমএস দিয়ে বা ফোন করে কোন গ্রাহকের তথ্য, পিন নাম্বার কিংবা অ্যাপ ভেরিফিকেশন কোড কখনোই বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানতে চাইবে না। কারণ গ্রাহকের সব তথ্য তো বিকাশ কর্তৃপক্ষ এমনিতেই জানে। বিভিন্ন ধরনের সুন্দর, সুন্দর কথা বলে যারা তথ্য জানতে চাইবে, বিকাশ থেকে আসা পিন ও পাসওয়ার্ড এসএমএস করে পাঠাতে বলবে, তারা প্রতারক ছাড়া আর কেউ নয়।