২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, বুধবার

কবিতা লিখতেন তথ্যমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ


ছোটবেলায় কবিতা লিখতেন তথ্যমন্ত্রী এবং সেই কবিতাগুলো চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলোর ছোটদের সাহিত্যপাতায় ছাপা হতো বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী নিজেই। ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে কবি সংগঠন ‘কথক’ আয়োজিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট সামিট ২০১৯-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি ছোটবেলায় কবিতা লিখতাম। আমার অনেক কবিতা চট্টগ্রামের পত্রিকায় ছোটদের সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু পরে রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে কবিতা হারিয়ে গেছে। নিজের জীবনটাই কবিতার মতো হয়ে গেছে। কারণ হচ্ছে, রাজনীতি বিপদসঙ্কুল। জেল-জুলুম, পুলিশের অত্যাচারÑ এগুলোর কারণে নিজের জীবনটাই কবিতার মতো হয়ে গেছে। কবিতা লেখা আর হয়নি।

বক্তব্যের শুরুতে ড. হাছান মাহমুদ বাংলাসাহিত্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান তুলে ধরেন। বিশ্বকবির গীতাঞ্জলী কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে বাঙালির প্রথম নোবেল জয় এসেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কবিতা ছাড়া বাঙালিকে কল্পনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক এই কবি সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৭ জন বিদেশি কবি প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের ৭ স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও শিল্পানুরাগী। উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিদেশী কবিদের মধ্যে ছিলেন ইরাকের কবি ড. আলী আল-সালাহম, উরুগুয়ের কবি এনাবেল ভিলার ও কবি জুলিও পাভানেতি, চীনের কবি ড. তিয়ানজিন কাই, কঙ্গোর জনপ্রিয় কবি কামা সাইওর কামানদ, যুক্তরাজ্যের কবি ক্লেয়ার বুকার ও মালয়েশিয়া’র কবি মালিম ঘোজালি। দেশের কবিদের মধ্যে অংশ নেন আসাদ চৌধুরী, হায়াৎ সাইফ, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, হাবিবুল্লাহ্ সিরাজি, জাহিদুল হক ও আমিনুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার সিনিয়র সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি অত্যন্ত আপ্লুত এখানে এসে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কবিরা আমাদের দেশে এসেছেন, সূদুর আফ্রিকার কঙ্গো, দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, চায়না, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশ থেকেও এসেছেন।

‘এত জ্ঞানী কবিদের মধ্যে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমি সত্যিই আপ্লুত। এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান। ছিমছাম, গোছানো। অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো বাহুল্য নেই, যেটি আমাকে অত্যন্ত আপ্লুত করেছে। আমাদের দেশে কোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে যে বাহুল্য করা হয়, সেটি এখানে নেই। এখানেই হচ্ছে পার্থক্য। কবিদের অনুষ্ঠান আর অন্যদের অনুষ্ঠানের মধ্যে।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এ মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা করতালি দেন।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি কবিতার জন্য এতো উপযোগ্য যে বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতিতে কেউ থাকলে তিনি যদি কবিমনস্ক হন, প্রকৃতিমনস্ক হন, তাঁর কবি হয়ে উঠা খুব সহজ। কবি হয়ে উঠার জন্য, কবিতার উপজীব্যের জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি অত্যন্ত উপযুক্ত।

তিনি বলেন, যে সব কবিরা বাংলাদেশে এসেছেন, আমি জানি না আপনারা কতদিন এখানে থাকবেন, দুই-তিনদিন, হয়তো এক সপ্তাহ। আমি অনুরোধ করবো, বাংলাদেশে আসলে অন্তত ১ মাস থাকার জন্য। গ্রাম, নদী দেখতে, বাংলাদেশের প্রকৃতি, বন দেখতে। এরপর আপনি আপনার নিজের কবিতা সমৃদ্ধ করতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সুন্দর। কবিতার জন্য অনেক উপাদান আছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকের এই সন্ধ্যায় কবিদের মেলায় দাঁড়িয়ে আমি এইটুকু বলতে চাই, কবিতা জীবনের কথা বলে। কবিতা মনের ভাষা প্রকাশ করে। আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করতে চাই। কবিদের অনুরোধ জানাবো, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করার জন্য কবিতার মাধ্যমে, আমরা যদি আমাদের নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষে স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করা সম্ভব।

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন কোনো বড় জনসভায় বক্তৃতা করতেন, অনেক সময় কবিতার লাইন দিয়ে শুরু করতেন। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি- এটা মূলত একটা কবিতা। এবং সেটি পরে গানে রূপান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে যখন বিমানে করে বাংলাদেশে আসছিলেন তখন বিমানের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়েছিলেন।’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি হয় কবিতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কবি। তিনি বাংলাদেশ নামক কবিতার অমর স্রষ্টা। সেই অর্থে বঙ্গবন্ধু রাজনীতির কবি, শ্রেষ্ঠ কবি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতার ভক্ত একজন মানুষ বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা ভাবি, সেভাবে বাংলাদেশকে গড়তে হলে আমাদের শুধু মেধাবী প্রজন্ম দিয়ে হবে না। মেধার সাথে মনুষত্ব এবং দেশাত্মবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। এই তিনটি জিনিসের সমন্বয় ছাড়া সত্যিকারের মানুষ গড়া সম্ভব নয়।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শুধু মেধাসম্পন্ন মানুষ যদি বড় ডাক্তার হয় ভবিষ্যতে, পরে দেখা যাবে যে, গ্রামের দরিদ্র কৃষকের জন্য সেই ডাক্তারের দরজা খোলা নেই। শুধু মেধাসম্পন্ন মানুষ যদি সরকারের বড় কর্মকর্তা হয়, দেখা যাবে সেই বড় কর্মকর্তার বাড়িতে তার গ্রামের মানুষ বা দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনের প্রবেশাধিকার নেই। সুতরাং মেধার সাথে দেশাত্মবোধ এবং মমত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

‘আমি আশা করবো যে, কবিতার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আমরা সেভাবে উজ্জীবিত করবো। আপনাদের এই উদ্যোগ সফল হোক, স্বার্থক হোক। ভবিষ্যতে যে অনুষ্ঠান হবে, সেটা আরো বড় পরিসরে হবে, আরও কবিরা আসবেন। কবিদের সেই মেলায় আমি একজন দর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকতে চাই।’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে কবি আমিনুর রহমান সম্পাদিত ‘বিশ্বসেরা সমকালীন কবিদের কবিতা’সহ তিনটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। দেশি-বিদেশি ১৫ জন কবির হাতে কথক সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

একুশে/এসআর/এটি