১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৩ ফাল্গুন ১৪২৫, শুক্রবার

জাদুঘরের ফলক থেকে ‘জিয়া’র নাম মুছে দিল ছাত্রলীগ

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯, ৫:৫২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়িতে সরকারি স্থাপনা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের’ নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করার দাবিতে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরাম’ সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে তারা।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরামের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশের পরিচালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পাকিস্তানি সেনারা অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। একজন বিতর্কিত মানুষের নামে কখনও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর হতে পারে না। স্বাধীনতা দিবসের আগে এ জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, মো. হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সরওয়ার আলম মনি, ছাত্রলীগ নেতা একরামুল হক রাসেল, কামরুল হুদা পাবেল, মোশরাফুল হক পাবদাশ, জাহিদুল ইসলাম প্রমি, মেজবাহ উদ্দিন শিকদার সুমন, শাহাদাত হোসেন মানিক, তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত গত সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

কাজির দেউড়ি এলাকায় ১৯১৩ সালে তৎকালীন বৃটিশ শাসকরা দৃষ্টিনন্দন ভবনটি নির্মাণ করে। পরে এটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত হতো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন। ভোরের দিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।

একই বছরের ৩ জুন সার্কিট হাউসকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমান স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়।

জাদুঘরে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটার সংরক্ষিত আছে।