১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৩ ফাল্গুন ১৪২৫, শুক্রবার

সাগরে মৎস্য আহরণ: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন যান্ত্রিক নৌযান দিয়ে সাগরে মাছ ধরার প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা সরকার দিয়েছে; সেটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মৎস্যজীবীরা। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নগরের ফিশারীঘাট এলাকায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মৎস্যশিল্পে ৩ কোটি মানুষ জড়িত। যান্ত্রিক মৎস্য নৌযান মালিক/মাঝি মাল্লাগণ আহরিত মাছের লাভ লোকসানের সমান অংশীদার এবং আর্থিকভাবে কেউ স্বচ্ছল নয়। আমাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ মাঝিমাল্লা মৎস্য আহরণ বন্ধ হলে পরিবার পরিজন নিয়ে উপোস করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

তারা আরো বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর থেকে মৎস্য আহরণ চলে আসা নিয়মে জাতি এর সুফল পেয়ে আসছে। কিন্তু গতবছর ২০ সেপ্টেম্বর সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিষয়ক সভায় জানতে পারি ২০১৯ সালে সরকার বাণিজ্যিক ট্রলারের সাথে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত যান্ত্রিক মৎস্য নৌযান দ্বারা মৎস্য আহরণ বন্ধ করার চিন্তাভাবনা করছে। সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার জাল যে সাইজ দেয়া আছে তাতে সুনির্দিষ্ট সাইজের ইলিশ মাছ ব্যতীত অন্য কোন মাছ ধরার বা আটকা পড়ার সম্ভাবনা নেই।

মৎস্যজীবীরা বলেন, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মে পর্যন্ত জাটকার জন্য অনেকেই সরাসরি ফিশিং বন্ধ রাখেন। ইলিশের প্রজননকালীন সময়ে আমরা সম্পূর্ণ মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখি। এরপর আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিমাসে কয়েকবার করে সামুদ্রিক বিপদ সংকেত দেখানো হয়। জাটকা নিধন ৬ মাস, প্রজননকালীন বন্ধ ২২ দিন, সাগরের বৈরি আবহাওয়ার জন্য ৩ মাস অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। এরপর আবার নতুন করে সরকার কর্তৃক ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মৎস্য আহরণ বন্ধ করার প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে মৎস্যজীবীগণ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।

মানববন্ধনে মৎস্য আহরণকারী ও বোট মালিক সমিতির মহাসচিব আমিনুল হক সরকার, মোহাম্মদ নুর হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সিরাজ ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, শাহমুল আলম, জসিম উদ্দিন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।