২৭ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার

ওয়াহেদ ম্যানসনের বেজমেন্টের গোডাউনে অক্ষত কেমিক্যাল

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯, ৩:১৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা : রাজধানীর চকবাজারে অগুনে পুড়ে যা্ওয়া ওয়াহেদ ম্যানশন ভবনের নিচতলায় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন।

ভয়াবহ আগুনে ওই ভবনের নিচ তলা থেকে সাড়ে ৪ তলা পর্যন্ত পুরোটা পুড়ে গেলেও বেজমেন্টের গোডাউনে রাখা কেমিক্যালগুলো অক্ষত রয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনের বিপরীত পাশে রাজ্জাক ম্যানশনের নিচ তলায় হায়দার ফার্মেসির পেছনের একটি গোডাউনেও কেমিক্যালের মজুত পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এই গোডাউনের সন্ধান পায়। এরপর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোডাউনটি পরিদর্শন করেন এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই গোডাউন পর্যন্ত আগুন পৌঁছালে দুটি ভবনই উড়ে যেত। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতো আরো অনেক।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তল্লাশি চালানোর সময় বেজমেন্টে গুদামের সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে অসংখ্য প্লাস্টিকের কন্টেইনারে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বেজমেন্টে বিপুল পরিমাণ পলিথিনের বস্তাও পাওয়া গেছে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, চকবাজারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেখানে রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের (কেমিক্যাল) কোনও অস্তিত্ব নেই এবং কোনো গোডাউনও ছিল না।

তিনি আরো বলেন, নিমতলীর ঘটনা আর চকবাজারের ঘটনা একদম ভিন্ন। এটা কেমিক্যাল সম্পর্কিত কিছুই না। সিলিন্ডার থেকে এটা হয়েছে। আজকের ঘটনা ভিন্ন। এটা কেমিক্যাল সম্পর্কিত কিছুই না। আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি। দিস ইজ ডিফারেন্ট স্টোরি।

মন্ত্রীর বক্তব্যের একদিন পরই ওয়াহিদ ম্যানশনে কেমিক্যাল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান।

শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জুলফিকার রহমান বলেন, ভবনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল, এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এছাড়া, অন্যান্য কেমিক্যালও ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। এখানে পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হতো। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমার মতো কাজ করেছে। এগুলো আগুনকে টিগার করেছে, যে কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। কেমিক্যালের কারণেই এভাবে ছড়িয়েছে। না হলে কখনও আগুন এভাবে ছড়ায় না।

কেমিক্যাল ও দাহ্য রাসায়নিক পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- আয়রন অক্সাইড, আয়েনিক ইয়েলো, আয়েনিক ব্লু, আয়েনিক রেড, অয়েল রেড, এসিড গ্রিন, রেড কালার পিগমেন্ট, ব্লু কালার পিগমেন্ট, ইয়েলো কালার পিগমেন্ট, কার্বন ইনজেনিরিয়াড। গুদামে আয়ন অক্সাইডের ছোট ছোট অনেকগুলো ড্রাম রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই কাগজের মোড়কে মোড়ানো ছিল। এসব কেমিক্যাল বিভিন্ন রংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, শিল্প কারখানায় ব্যবহারের জন্য কয়েকশ টন রাসায়নিক রয়েছে গুদামটিতে। এসব রাসায়নিক কতটা দাহ্য সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই কেমিক্যালের মজুদ সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।

একুশে/এসসি