২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার

‘আওয়ামী অন্তঃপ্রাণ প্রার্থীকে কেন এত ভয়?’

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০১৯, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : ‘যে সময়টিতে পুরো বাংলাদেশ তারুণ্যনির্ভর হবার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে সে সময়ে বয়সের ভারে ন্যুজ হওয়া কতিপয় লোক তারুণ্যের গলাটিপে ধরতে উদ্যত। তারা ভুলে গেছেন তারুণ্যই সকল শক্তির উৎস। তাই যারা জোর করে পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর নিয়েছেন তাদের করুণা করি, আমার মতো সামান্য একজন আওয়ামী অন্ত:প্রাণকে যাদের এতো ভয় তারা কীভাবে স্বপ্ন দেখছেন চেয়ারম্যান হওয়ার?’

শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে পটিয়ার স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন রাখেন ২৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় পটিয়া উপজেলা পরিষদে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন বলেন, পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমি এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় সামিল হওয়ার সাহস করেছি। আমার রক্তে জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার দ্রোহ। দাদা প্রয়াত আবদুস ছাত্তার ছিলেন বড়লিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তাঁর পুত্র আমার পিতা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিলেন একই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধু’র আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারায় নিজেকে স্কুলজীবনে সম্পৃক্ত করেছি বাংলাদেশের বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। তৃণমূল ছাত্রলীগ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হয়েছিলাম। বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতিতে সময় দিচ্ছি।- বলেন সাজ্জাত হোসেন।

সারাজীবন বঙ্গবন্ধুবন্দনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ সাজ্জাত বলেন, নানা আয়োজনে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সামগ্রিক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেছি। সর্বাগ্রে দেশকে মাথার উপর রেখেছি। এতোকিছুর পরও আমি, আমরা যারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি-সমাজনীতি পরিচালনা করি তারা বিরোধীপক্ষের রোষানলে পড়ার আগে নিজেদের দলীয় মানুষদের রোষানলে পড়েছি বার বার। অথচ একটু সহযোগিতা পেলে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সোনার বাংলা বিনির্মাণে পরিশ্রম করে চলেছেন সেটি বাস্তবায়ন সহজেই সম্ভব।

সাজ্জাত হোসেন নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখতে নানা হুমকি-ধামকিরও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শরীরে আমার মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবহমান, শত হুমকি-ধমকি-অনৈতিক প্রলোভনে আমাকে লক্ষ্যচ্যুত করা যাবে না। আমি শেষপর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবো। সেজন্য চাই আপনাদের নিরন্তন সমর্থন। চাই পটিয়াবাসীর ভালোবাসা-স্নেহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, তিনিই আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছেন, তারই নির্দেশে নির্বাচনকে উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি করতে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছি। -যোগ করেন সাজ্জাত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাজ্জাত বলেন, পটিয়া উপজেলার সংসদীয় অভিভাবক, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ,পটিয়ার মাটি-মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু জননেতা শামশুল হক চৌধুরীকে, যিনি দায়িত্ব নিয়ে পটিয়ায় একটি উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে প্রস্তুত, এবং তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ব্যক্তিগত কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

সাজ্জাত বলেন, জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষ নেতিবাচক আলাপে আকাশ-বাতাস ভারি করছে সে-সময়ে দলের নিবেদিত নেতা-কর্মীরা একটি সার্বজনীন নির্বাচন প্রশ্নে মশগুল ছিলেন এবং ভোট ডাকাতির স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তারাই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া। সেই তথাকথিতদের চিহ্নিত করতেই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবো। এসময় একটি অসাম্প্রদায়িক পটিয়া, উন্নয়ন সমৃদ্ধ পটিয়া, সর্বোপরি তারুণ্যের পদভারে মুখরিত জনপদ পটিয়া বিনির্মাণে সর্বশক্তি প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পটিয়া উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন খান, ইদ্রিস মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমদ টিপুসহ পটিয়ার সামাজিক উন্নয়নে যারা ধারাবাহিক ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানান চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাত।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচনে নির্বিঘ্নে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করে জয়- পরাজয়ের ভার ভোটারদের উপর ছেড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পটিয়া সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার দোয়া চান এবং তাদের হাতে তার রাজনৈতিক জীবন, কর্মযজ্ঞ নিয়ে তৈরি লিফলেট তুলে দেন। এসময় তিনি ২৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাকে দোয়াত-কলম মার্কায় বিজয়ী করে পটিয়াবাসীর সেবার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানান।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি