২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার

প্রথম মসজিদে হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারীর পরিচয় অনিশ্চিত

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০১৯, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক নিশ্চিত করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্রোমনোভাবের ডানপন্থী এ জঙ্গি হামলা চালিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান স্কট মরিসন। একই সঙ্গে তার নামও প্রকাশ করেন নি স্কট মরিসন।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, টুইটারে তার নাম ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে গেছেন। হামলার আগে একটি মেনিফেস্টো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ট্যারান্ট। তাতে নিজেকে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

অভিবাসীবিদ্বেষী এই হামলাকারী তার মেনিফেস্টোতে বলেছে, এ হামলা করে অনুপ্রবেশকারীদের (অভিবাসী) সে দেখাতে চায় যে, ‘আমাদের ভূমি কখনো তাদের ভূমি হবে না, যতক্ষণ শেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে’। সে আরো লিখেছে, আমাদেরকে আমাদের এবং নিজেদের শিশুদের ভবিষ্যতকে নিশ্চিত রাখতে হবে।

নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে হামলাকারী তার মেনিফেস্টোতে লিখেছে, ‘পূনরুজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে’ বললে আমি অবশ্যই ট্রাম্পের একজন সমর্থক।

শুক্রবার(১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে ১ নারীসহ ৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।
এদিকে, ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তার মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল।

একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছোটাছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

এক্সপ্রেস নামের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের অনলাইনে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। ২৮ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। ২ বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন।

হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এ হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, ভিডিওটি ভয়াবহ উল্লেখ করে তা অনলাইনে না ছড়াতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। হামলাকারীর নিজের নামেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেন বলে জানায় স্থানীয় পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, এটি তার আসল নাম নয়। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

একুশে/ডেস্ক/আরসি/এসসি