২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার

বীমার ক্ষতিপূরণ পেতে হয়রানি দূর করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

KSRM Advertisement
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০১৯, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : বীমার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে বীমা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বীমার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। এ বিষয়টা দূর করতে হবে। সবাই যে করে তা নয়, কেউ কেউ করে। সে কারণে আস্থাহীনতা, সংকট তৈরী হয়।

তিনি বলেন, ৭৮টি বীমা কোম্পানীর মধ্যে দু-চারটার জন্য বা কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পুরো সেক্টরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ুক, সেটা তো হতে পারে না। শুধু বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নয়, আপনারা যারা বীমা কোম্পানীর সাথে যুক্ত আছেন, আপনাদেরকে অনুরোধ জানাবো, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার কেউ যাতে না হয়, সেজন্য আপনারা কাজ করবেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বড় ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে খুব বেশী হয়রানি হয় না, কারণ বড় ক্ষতিপূরণ দাবি করে বড় কোম্পানীগুলো বা শক্তশালী ব্যক্তিবর্গ। ছোট ক্ষতিপূরণের সময় দেখা যায়, অনেক ঘুরতে হয়। এটি যাতে না হয়। এ লক্ষে দয়া করে আপনারা কাজ করবেন। যাতে আস্থার সংকট দূর হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বীমা খাতে প্রিমিয়াম আদায় ছিল এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটু বেশী। আর সেটি ২০১৭ সালে ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটা ভালো দিক। কিন্তু এখনো জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান হচ্ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর ভারতের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান হচ্ছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে সেটি অন্তত ১০ শতাংশ। ভারত থেকেও আমরা ৫ গুণ পিছিয়ে আছি। তাহলে এই ক্ষেত্রে আরো অনেক কাজ করা প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার বলেছেন, বীমা নিয়ে সচেতনতার অভাব আছে। আবার এ নিয়ে সংশয়ও কাজ করে। তিনি যথার্থ বলেছেন। এই দুটি কারণে বীমা খাতে ভারতের পর্যায়ে আমরা যেতে পারিনি। এজন্য এই সংশয়গুলো দূর করতে বীমা কোম্পানীগুলোকে আরো কাজ করতে হবে। তাহলে ভারতকে অতিক্রম করে আমরা ৫ শতাংশে যেতে পারবো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে।

তিনি বলেন, গাড়ির বীমা আছে, কিন্তু চালকের বীমা থাকে না। এটা দূর করতে হবে। গাড়িচালকের বীমা করা দরকার। বীমা কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্পখাত কৃষিখাতকে ছাড়িয়ে গেছে। কারখানার জন্য বীমা হয়, শ্রমিকের জন্য গ্রুপ বীমা হয় না। আহত, অঙ্গহানি ও নিহত হলে দানশীল বা মালিকদের বদান্যতার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে স্বাস্থ্য বীমার সংখ্যা খুবই সীমিত। ইউরোপে শতভাগ মানুষের স্বাস্থ্য বীমা আছে। আমাদের মানুষ চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড সীমিত। বেসরকারি ক্লিনিকে লাখ লাখ টাকা বিল আসে। তাই স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হবে। সম্পদের বীমা না করার প্রবণতার কারণে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেলে ক্ষতিপূরণ পায় না।

উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জীবন বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা আফরোজ ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।

একুশে/এসআর