২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি আরমান ২ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯, ৮:১০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আরমানকে দুইদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এস এম শহীদুল্লাহ কায়সার এই আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক বিজন বড়ুয়া বলেন, আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন রিমান্ড আবেদন করেছিল সিআইডি। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে গত ২০ মার্চ চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

আরমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দিয়াজ হত্যা মামলার আরেক আসামি আলমগীর টিপুর ছোট ভাই।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন আরমান।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ।

তিন দিন পর ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়। তার ভিত্তিতে হাটহাজারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে পুলিশ।

তবে দিয়াজের পরিবার ও তার অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মীরা এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করে আসছিল।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন হত্যামামলা। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ১০ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

তারা সবাই চট্টগ্রামের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দিয়াজের মায়ের আপত্তিতে আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। এজন্য তারা চট্টগ্রামে দিয়াজের লাশ উদ্ধারের ও যান।

এরপর ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তারা বলেন, দিয়াজের শরীরে ‘হত্যার’ আলামত রয়েছে।

এ প্রতিবেদনের পর দিয়াজের মায়ের করা এজাহার হত্যামামলা হিসেবে নিতে হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে।