২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

চবিতে একের পর এক ছিনতাই, প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা

প্রকাশিতঃ শনিবার, মার্চ ৩০, ২০১৯, ১১:৪০ অপরাহ্ণ


ইফতেখার সৈকত: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

চারদিকে পাহাড় ঘেরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়তন প্রায় ২১শ’ একর। বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক এলাকা, হ্রদ, পুকুর ও পাহাড় দিয়ে ঘেরা এ বিশ্ববিদ্যালয়। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোলে হারিয়ে এখানে আসেন অনেক পর্যটকও।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার হতে হচ্ছে ভ্রমণপিপাসু, বাদ যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরাও।

গত ২৫ মার্চ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জ থেকে ২০ মিনিট দূরত্বে পাম বাগানে এক বন্ধুর জম্মদিন পালন করতে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী। এ সময় মুখোশ পরে বন্দুক ও রামদা নিয়ে ৪ জনের একটি গ্রুপ তাদের জিম্মি করে ৬ টি মোবাইল ফোন ও ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাটি জানতে পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনার দু’দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত টেলিটক হিলে একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পেছনে অবস্থিত টেলিটক হিলে লোকপ্রশাসন বিভাগের (১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান রাব্বি তার ভাইকে নিয়ে ঘুরতে গেলে ৫ জন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে। এই ঘটনায় ছিনতাইকারীরা ওই দুইজন থেকে দুটো মোবাইল ফোন ও সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এসব ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আগামীকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের (১৪-১৫) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবেল বলেন, আমি যখন প্রথম ক্যাম্পাসে আসি তখন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এমন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভয়ানক রকমের নাজুক হয়ে পড়েছে। সামান্যতম নিরব, নির্জন রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে।

তিনি বলেন, শুধু আমি নই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে এখন ক্যাম্পাসে বিচরণ করতে অজানা শংকায় থাকেন। আমি আশা করবো, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি আমলে নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শুধু কর্তৃপক্ষের উপর দোষ দিলে চলবে না। আমরা যারা শিক্ষার্থী রয়েছি তাদের উচিত হবে নিষিদ্ধ স্থানগুলোতে যাওয়া বর্জন করা এবং সচেতনভাবে চলাফেরা করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর স্থান রয়েছে। তবে এসব জায়গায় প্রায়ই অনিরাপদ শিক্ষার্থীরা। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অজানাকে জানা, নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি চরম আকর্ষণ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট। তবে কৌতুহল মেটাতে অনিরাপদ স্থান বেচে নেওয়াটা কারো জন্য কাম্য নয়। পাহাড়ের উঁচু নিচু পথ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবজায়গা নিরাপত্তার বেষ্টনির আওতায় আনা দুরূহ ব্যাপার।

তাছাড়া কোন দূর্ঘটনার খবর পাওয়া গেলে পাহাড়ের উঁচুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এ অবস্থায় যতটুকু সম্ভব ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এ বিষয়টি নিয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের উচিত হবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলা। এবং যে স্থানগুলো অনিরাপদ তা বর্জন করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোর্শেদ রিপন একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সচেতন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাদের নিরাপত্তা দিতে। তবে প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গা আছে যেখানে তেমন নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয় না। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, দূর্গম পাহাড় দিয়ে বহিরাগতরা প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ করে। সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী পৌঁছাতেই তারা পালিয়ে যায়। যদি শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ স্থানগুলোতে না যায় এবং সচেতন হয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য সহজ হয়।